একেই বিপুল জনসংখ্যার দেশ চীন। সেই দেশেই এবার জনসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন! যেখানে এক সন্তান নীতি নিয়ে এত তোলপাড় হয়েছিল সেখানেই জনসংখ্যা বাড়ানোর এই সরকারি উদ্যোগের খবরে হইচই পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে।
দেশে ক্রমবর্ধমান বয়স্ক মানুষের সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য এনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়াতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন বলে সূত্রের খবর। আর এর জন্য ২০২১-২৫ সাল পর্যন্ত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে নিয়ে ফেলেছে বেজিং সরকার।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে দেশের অর্থনৈতিক অভাব দেখা দেওয়ায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রবল চেষ্টা করেছিল বেজিং। উদ্দেশ্য ছিল, দেশের উৎপাদিত পণ্যসামগ্রীর সঙ্গে চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা। কিন্তু, আজ ৪২ বছর বাদে পুরনো সেই নীতি বদলে জন্মহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে জিনপিং প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চীনে যেভাবে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তা কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ক্রমশ কমবে বলেই মনে করছে চীনা প্রশাসন।
হিসাবে অনুযায়ী, গত বছরের শেষ পর্যন্ত গোটা দেশে ৬০ বছর ও তার উপরে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ২৫ কোটি ৪০ লক্ষ। যা মোট জনসংখ্যার ১৮.০১ শতাংশ। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ৩০ কোটি ও ২০৩৫ সালে ৪০ কোটিতে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ২০৫০ সালে পৌঁছে চীনে মাত্র ২০ কোটি লোক কর্মক্ষম থাকবে। এর ফলে যেমন উৎপাদন কম হবে তেমনি বয়স্ক মানুষদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করতে প্রচুর সরকারি অর্থ খরচ করতে হবে। তাই ১৯৭৮ সালে চালু হওয়া এক সন্তান নীতির বদলে চীনের সরকার আরও বেশি সন্তান নেওয়ার জন্য নাগরিকদের উৎসাহ দিচ্ছে। এর জন্য বাড়তি সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে।
চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, নতুন নীতি অনুযায়ী, নাগরিকদের আরও বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করবে চীন প্রশাসন। জন্মহার বাড়াতে দম্পতিদের আর্থিক সাহায্যও করা হবে।





