বাংলাদেশের পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত। বিগত কিছুমাস ধরেই সে দেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের খবর মিলছে। আর গত কয়েকদিনে তা মাত্রা ছাড়িয়েছে। এরই উপর আবার ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফাতারির ঘটনায় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জ্বলছে। এমন ঘটনায় গোটা বিশ্বের কটাক্ষের মুখে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার। এবার বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় গর্জে উঠলেন ব্রিটিশ সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঋষি সুনাকের দলের সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দুদের উপর হামলা হচ্ছে, জেলে ভরা হয়েছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে, সেসবের তীব্র নিন্দা করছি। ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চেয়ে বাংলাদেশের হাই কোর্টে যেভাবে মামলা দায়ের হয়েছে, সেটাও যথেষ্ট উদ্বেগের। বিশ্বের সমস্ত দেশেই ধর্মপালনের স্বাধীনতা থাকা উচিত”।
ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর গ্রেফতারির ঘটনা নিয়েও তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন), যারা যুক্তরাজ্যের এলস্ট্রির ভক্তিবেদান্ত ম্যানর পরিচালনা করে, যা এই দেশের বৃহত্তম হিন্দু মন্দির, তাদের একজন আধ্যাত্মিক নেতা বাংলাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন”।
তাঁর সংযোজন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা করে তাঁদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মন্দির। বাংলাদেশ সরকারে যাই পরিবর্তন হয়ে থাক না কেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর এমন নির্যাতন মোটেই বরদাস্ত করা যায় না। গোটা ঘটনায় দায় রয়েছে আমাদেরও, কারণ বাংলাদেশকে স্বাধীন হতে সাহায্য করেছিল ব্রিটেন”।
ব্ল্যাকম্যানের কথায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও তাদের উপর চলা অত্যাচার বন্ধ করার জন্য কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা আজ চরম বিপদের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা”।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্স-এর বহুদলীয় গোষ্ঠী ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর দ্য কমনওয়েলথ’ ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট পেশ করেছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “নতুন জমানায় বাংলাদেশে দু’হাজারের বেশি হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার বদলা নিতে বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করেছে। আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন”।





