দীর্ঘ বছর ধরে বিকল যন্ত্রপাতি, টাকা দিচ্ছে না সরকার! হাতে-কলমে ছেড়ে ইউটিউব ভিডিও দেখানো হচ্ছে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস, বিশ্বমানের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ কী হাল!

দীর্ঘ বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে যন্ত্রপাতি। এক্সপেরিমেন্টের জন্য ব্যাঙ, ইঁদুর কেনারও টাকা নেই। প্রয়োজনীয় কেমিক্যালস নেই ল্যাবে। পড়ুয়াদেরই এক্সপেরিমেন্টের জিনিসপত্র কিনে আনতে বলা হচ্ছে। কখনও আবার অধ্যাপকরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিচ্ছেন। হাতে কলমে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস এখন অতীত। এখন ইউটিউব ভিডিও দেখিয়েই চলছে প্রাক্টিক্যাল ক্লাস।

না, এমন হাল প্রত্যন্ত কোনও গ্রাম বা শহরতলির কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। এমন করুণ অবস্থা খাস কলকাতার গর্ব বিশ্বমানের প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের। এমন বেহাল দশার প্রতিবাদ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার অভিযোগ করেছেন পড়ুয়ারা। অধ্যাপকরাও সরব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যেন কোনও হেলদোলই নেই।

যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, ইউএন ব্রহ্মচারীর মতো কিংবদন্তিদের নাম জড়িয়ে রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানেই এখন প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস নেওয়া হচ্ছে ইউটিউব ভিডিও দেখিয়ে। পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা, সব বিভাগেই একই অবস্থা। এক্সপেরিমেন্টের জন্য পড়ুয়াদের বলা হচ্ছে ব্যাঙ, ইঁদুর কিনে আনার জন্য।

জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে ইঁদুরের এমব্রায়োলজিক্যাল সাইকেল দেখার জন্য প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাসে কিছু কেমিক্যাল ও ইঁদুরের প্রয়োজন ছিল। হাজার দুয়েক টাকা খরচ হত এতে। কিন্তু সেই টাকাও দিতে পারে নি বিভাগ। শেষ পর্যন্ত ইউটিউব ভিডিও দেখিয়েই উচ্চশিক্ষার জন্য পড়ুয়াদের সেই প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস নেওয়া হয়।

এক পড়ুয়ার কথায়, “স্নাতকস্তরে যদি হ্যান্ডস অন এক্সপেরিমেন্ট না করি, তা হলে মাস্টার্স বা পিএইচডি–তে তো আরও পিছিয়ে পড়ব। এ ভাবে তো হয় না”। জানা যাচ্ছে জীববিদ্যা, জিওলজি–সহ নানান বিভাগেই পর্যাপ্ত মাইক্রোস্কোপই নেই। এক–একটি মাইক্রোস্কোপে আগে যেখানে দু-তিন জন করে পড়ুয়া এক্সপেরিমেন্ট করতেন, এখন ১০–১২ জনেও তা সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

রসায়নবিদ্যার ল্যাবে প্রয়োজনীয় কেমিক্যালসই নেই বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের। আর যা যন্ত্রপাতি রয়েছে, তা অনেক বছরের পুরনো হওয়ায় প্রায় খারাপই হয়ে গিয়েছে। এক পড়ুয়া জানাচ্ছেন, “আমাদের ল্যাবে স্পেকট্রো ফোটোমিটার ইউভি ভিজ়িবল বলে একটি যন্ত্র অন্তত বছর দুয়েক ধরে খারাপ। পয়সার জন্য নাকি সেটা ঠিক করা যাচ্ছে না। নতুন যন্ত্রের দামও প্রচুর। ফলে ইউটিউব ভিডিও ছাড়া আর উপায় কী”।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা বিতান ইসলামের দাবী, “আমরা যতবার এই সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছি, ততবারই বলা হয়েছে সরকার টাকা দিচ্ছে না। ছাত্রছাত্রীদের ফি বাড়াতে হবে। এটা সলিউশন হতে পারে”? বিতানের মতো আরও অনেকেরই প্রশ্ন, “বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় তকমা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের যদি এই হাল হয়, তা হলে অন্য কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা কী”?

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় পুলিশকর্মীর রহস্যমৃত্যু, স্ত্রী-ছেলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ 

এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।  তবে এক কর্তার কথায়, “আমরা এই অভাব নানা ভাবে মেটানোর চেষ্টা করছি। প্রচুর প্রাক্তনী এগিয়ে আসছেন সাহায্য করতে। আরও অনেকেই চাইছেন প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়াতে”। উচ্চশিক্ষগা দফতরের আবার দাবী, প্রেসিডেন্সিকে নাকি যথাযথ সাহায্য করা হচ্ছে। কিছু বকেয়া থাকলে জানাতে বলা হয়েছে। তবে সরকারের কাছে কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

আরও অন্যান্য খবর