বিশ্বে আগমনের এক বছর পার করেছে করোনাভাইরাস (Covid-19)। বর্তমানে এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বিশ্বজুড়ে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি। প্রথম থেকেই এই ভয়টা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যই বিশ্বের কাছে চেপে যেতে চেয়েছিল চীন (China) প্রশাসন। আর যার ফলস্বরূপ মহামারীর আকার ধারণ করে এই ভাইরাস। প্রাণ যায় লক্ষ লক্ষ মানুষের। চীনে এই ভাইরাস নিয়ে কাজ করা গবেষক থেকে শুরু করে খবর করা সাংবাদিক প্রত্যেককেই চীন সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে।
এবার খবর পাওয়া গেল, করোনার আঁতুড়ঘর উহানে করোনা নিয়ে রিপোর্টিং করার জন্য পাঁচ বছরের জেল হতে পারে এক চাইনিজ সাংবাদিকের। ৩৭ বছরের আইনজীবী ঝ্যাং ঝ্যানকে মে মাসে চীনের পুলিশ উহান থেকে গ্রেফতার করে সাংঘাই নিয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে ঝামেলা করা ও অশান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগ এনেছে শি জিনপিংয়ের (Xi-jinping) প্রশাসন।
জানা গেছে ঝ্যাং ফেব্রুয়ারির শুরুতে সাংঘাই থেকে উহানে যান। Network of Chinese Human Rights Defenders (CHRD) জানিয়েছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই মহিলা সাংবাদিক অনেক তথ্য প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। কিভাবে অন্য সাংবাদিকদের আটক করা হচ্ছে, কোভিডে মৃতদের পরিবারদের হয়রানি, সবই তুলে ধরেন তিনি। আর এই খবর করার জেরেই মে মাসের ১৪ তারিখ তাঁকে আটক করা হয়।
এরপর জুনের ১৯ তারিখ তাঁকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করা হয় ও ১৮ সেপ্টেম্বর এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। CHRD-র দাবি যে নেহাতই সত্যিটা প্রকাশ করার জন্য ৪-৫ বছরের জেল হতে পারে এই সাংবাদিকের। সারা বিশ্বের এই নিয়ে উৎকণ্ঠিত হওয়া উচিত বলে মনে করে মানবাধিকার রক্ষার্থে গঠিত সংস্থাটি। তবে শুধু ঝ্যাং নয়, উহান থেকে রিপোর্টিং করার জন্য জেলে আছেন আরো দুইজন সাংবাদিক। এছাড়াও দুইজন সাংবাদিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এখন জেলে বিচারের অপেক্ষায় আছেন ঝ্যাং। তিনি বেঠিক তথ্য দিয়ে উহানের পরিস্থিতিকে ঘোরালো করে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ এনেছে চীনের প্রশাসন। ঝ্যাংয়ের আইনজীবী জানিয়েছেন যে এখন অনশনে আছেন তাঁর মক্কেল। জোর করে তাঁকে খাওয়ানো হচ্ছে কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন তিনি।





