মালদার টোটো বিস্ফোরণের জেরে কেঁপে উঠেছিল গোটা এলাকা। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল মালদার সুজাপুর এলাকা। আজ, বৃহস্পতিবার বেলার দিকে মালদার কালিয়াচক থানার সুজাপুর এলাকায় প্লাস্টিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্লাস্টিক কারখানার ক্রাশার মেশিন ব্লাস্ট করে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে। ঘটনায় পাঁচজন শ্রমিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
আজ বেলা ১১টা নাগাদ আচমকাই ওই প্লাস্টিক কারখানায় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ক্রাশার মেশিন ফেতেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে প্লাস্টিকের দানা বের করা হয়। বিস্ফোরণের জের এতো বেশী ছিল যে কারখানার ছাদ উড়ে যায়। কেঁপে উঠে গোটা এলাকা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে ৫ শ্রমিকের। বিস্ফোরণের তীব্রতার জেরে শ্রমিকদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে যায় বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। দেহাংশ বেশ কিছু দূরে ছিটকে যায় বলেও জানা গিয়েছে।
আটজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন এই ঘটনার জেরে। তাদের মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আহত শ্রমিকদের নাম প্রমিলা মণ্ডল, আবু শাহেদ, জুলখা বিবি, মুসা শেখ, জুলি বেওয়া, রেণুকা মণ্ডল প্রমুখ। বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া, জেলাশাসক রাজর্ষি মিত্র।
কিছুদিন আগে মালদাতে টোটো বিস্ফোরণে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। মালদা শহরের বাগবাড়ি বাস্ট্যান্ডের কাছে ঘোড়াপীর এলাকায় একটি টোটোয় বিস্ফোরণ ঘটে। ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল টোটো চালকের দেহ। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কেঁপে উঠেছিল গোটা এলাকা। এই ঘটনার পরই এলাকাবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।
রাজ্যের মুখ্যসচিবের থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনা জানার পরই রাজ্যের মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আজ বিকেলে হেলিকপ্টারে ওই স্থানে গেছেন তিনি। মৃতদের নিকট আত্মীয়দের ২ লক্ষ করে টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। আহতদেরও ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সবাই বৈঠক করেছি। ডিএম ও এসপির সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে হেলিকপ্টারে করে পৌঁছবেন ফিরহাদ হাকিম”।





