নেপালের রাজনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে দেশের রাজনীতিতে। নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির দুই প্রধান কে পি শর্মা ওলি ও পুষ্পকমল দহল ওরফে প্রচণ্ডের বিরোধে রাজনৈতিক দল রীতিমতো ভাঙনের মুখে। এই অবস্থার উন্নতি ঘটাতে নেপালে রওনা হয় চীনের বিশেষ প্রতিনিধি দল। কিন্তু তাদের গত চারদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েও কমিউনিস্ট শিবিরে শান্তি ফেরানো গেল না। শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই দেশে ফিরতে হল চীনের প্রতিনিধিদের।
গোষ্ঠীদ্বন্দের আশঙ্কায় গত ২০শে ডিসেম্বর নেপালের সংসদ ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। এরপর থেকেই নানান জায়গায়, এমনকি রাস্তায় নেমেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পুষ্পকমল দহল ও এনসিপি-র চেয়ারম্যান মাধবকুমার নেপালের অনুগামীরা। বলা হয় যে, সংসদ ভঙ্গ করার কোনও বিধান নেপালের সংবিধানে নেই।
আবার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ৩০শে এপ্রিল ও ১০ মে, দু’দফায় নির্বাচন হওয়ার কথা নেপালে। কিন্তু নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কোনও সমঝোতা হয়নি। ঠিক তেমনি ওলি ও বিরোধী দলগুলির চীনা প্রতিনিধিদের উপরোধে প্রচণ্ড-মাদব গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে বিকল্প সরকার গড়তে রাজী নয়। এমনও বলা হয়েছেন যে, বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেসের মতো বিরোধী কোনও দলের সমর্থন নিয়ে হলেও কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বেই সরকার গড়তে চায় চীন।
এদিকে, বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, এইজন্য ওলির কাছে আবেদন করেন চীনা দূতেরা। তাঁকে এও বলা হয় যে প্রচণ্ড ও মাধব তাঁকে পরিধানমন্ত্রী থাকতে দেবে। কিন্তু কোনও কথাতেই আমল দিতে রাজী নয় নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান মিলবে। এরপর ওলি ও প্রচণ্ড শিবিরকে একসঙ্গে নির্বাচন লড়ার আবেদন জানিয়ে জনমতের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী বেছে নেওয়ার আর্জি জানায় চীনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেই প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেন ওলি। এই সব মিলিয়ে নেপালের রাজনৈতিক অবস্থা বেশ শোচনীয়।





