পাকিস্তানী সমাজকর্মী ও সোশ্যাল মিডিয়া খ্যাত রাহাত অস্টিনকে খুনের অভিযোগ উঠল এক জেহাদির বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে তাঁকে ছুঁড়ি দিয়ে কোপায় এক জেহাদি। রাহাতের কথায় ওই ব্যক্তি হয় মধ্য-পূর্বের বাসিন্দা। নিজের উপর হত্যার খবর নিজেই টুইট করে জানান রাহাত।
https://twitter.com/johnaustin47/status/1346329221359046657
ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান যে এক ইসলামি জেহাদি তাঁর উপর ছুঁড়ি দিয়ে আক্রমণ করেছে। তিনি এও জানান যে আক্রমণ করার পূর্বে সেই দুষ্কৃতী ‘আল্লাহ্-হু-আকবর’ বলে চিৎকার করেও উঠে। রাহাতের মতে, এই দুষ্কৃতী দেশের মধ্য-পূর্বভাগের কোনও বাসিন্দা।
ভিডিওতে দেখা গিয়েছে রাহাতের চোখের নীচে ও মুখে কালশিটের দাগ। বোঝাই যাচ্ছে, উক্ত ওই দুষ্কৃতীর হামলাতেই তাঁর শরীরের এই অবস্থা। ভিডিওতে তিনি আরও বলেন যে, “আমি পাকিস্তান সরকারের সংখ্যালঘু মানুষদের প্রতি হওয়া জাতিবৈষম্য, নিপীড়ন, গণহত্যা নিয়ে অভিযোগ তুলেছি। ১৯৪৭ সালে যখন পাকিস্তান আলাদা দেশ হয়, তখন আমাদের সংখ্যা ছিল ২৩ শতাংশ যা এখন এসে দাঁড়িয়েছে ৩ শতাংশতে”।
রাহাতের মতে, পাকিস্তানের কিছু নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম রয়েছে যারা সরকারের চাপে পড়ে এই সমস্ত ঘটনাগুলিকে সামনে আনতে চায় না। তাঁর দাবী, তিনি নিজেকে প্রাণপণে বাঁচিয়েছেন, নাহলে অন্যান্যদের মতো তাঁরও মুণ্ডচ্ছেদ করা হত।
উল্লেখ্য, রাহাত অস্টিন পাকিস্তানের এক সমাজকর্মী যিনি ওই দেশের সংখ্যালঘু মানুষদের প্রতি হওয়া নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই তিনি পাকিস্তানের ঘৃণ্য রূপটি আয়নার সামনে তুলে ধরেন। গত ১লা জানুয়ারি, তিনি টুইটারে হিন্দু তরুণী মিজা কুমারীর অপহরণ, ধর্ষণ ও জোর করে ধর্মান্তর করানো ও সবশেষে বহু বাটি গ্রামের এক মুসলিমের সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। এমনকি, ওই তরুণীর বাবা রতন লালের একটি ভিডিওও শেয়ার করেন তিনি। এই ভিডিওতে রতন লালকে বলতে শোনা যায় যে যদি তাঁর মেয়েকে ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তবে তারা আত্মহত্যা করবেন। রাহাতের এই ভিডিওর পরই তাঁর উপর আক্রমণ ধেয়ে আসে। তার ফলস্বরূপ তাঁর উপর এই হামলা।






