রাশিয়া হামলা চালানোর পরই তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁকে নিশানা করা হচ্ছে। আর এবার দেশকে বাঁচাতে নিজের হাতে বন্দুক তুলে নিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। গতকাল, শুক্রবার সেনাদের সঙ্গে রাস্তায় বসে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। দেশকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে লড়াই করে যাবেন তিনি, এই আশ্বাসই দেন ভোলোদিমির।
ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এই ভিডিও। রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে পড়েও তিনি যে এমন সাহস প্রদর্শন করেছেন ও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁকে সাধুবাদ জানিয়েছে নেটবাসীরা।
গাঢ় সবুজ রঙের মিলিটারি পোশাক পরে, প্রেসিডেন্সি বিল্ডিংয়ের বাইরে প্রধানমন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিকদের পাশে নিয়েই রাশিয়ার চাপের জবাব দিতে দেখা যায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জ়েলেনস্কিকে।
দেশবাসীর উদ্দেশে পোস্ট করা ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আমরা সবাই এখানে রয়েছি। আমাদের মিলিটারি বাহিনী রয়েছে। সমাজের সাধারণ মানুষও রয়েছে। আমরা সবাই মিলেই আমাদের স্বাধীনতার জন্য, দেশের জন্য লড়াই করছি। আগামীদিনেও এইরকমভাবেই একসঙ্গে থাকব আমরা”।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে রুশ সেনার সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়, সেই সময়ই সতর্ক হয়ে গিয়েছিল কিয়েভ। এরপর গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা করে দেন। গোটা ইউক্রেন জয় করা রাশিয়ার লক্ষ্য নয়, বরং ইউক্রেনের দুটি প্রদেশে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির উত্থান হয়েছে, তা দমন করাই লক্ষ্য রাশিয়ার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশ, জল, স্থলপথে হামলা চালাতে শুরু করে রাশিয়া।
গতকাল, শুক্রবার দুপুরের দিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ঢুকে পড়ে রুশ সেনা। শহরের ভিতরে ও সীমানার পার্শ্ববর্তী একাধিক অঞ্চলে সংঘর্ষ হয়েছে। মধ্যরাতে রাশিয়া এয়ারস্ট্রাইক চালাতে পারে, এই আশঙ্কায় কিয়েভর বাসিন্দাদের নিরাপদ কোনও জায়গায়, প্রয়োজনে শহরের একাধিক স্থানে যে বাঙ্কার খুলে দেওয়া হয়েছে, সেখানে আশ্রয় নিতে বলা হয়। রাশিয়ান সেনার আক্রমণের জবাব দেওয়ার জন্য হাতের কাছে পেট্রোল বোমা তৈরি রাখার পরামর্শও দিয়েছেন কিয়েভের মেয়র।





