বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। একদিকে দেশের পরিস্থিতি অশান্ত, অন্যদিকে দেশের বাইরে থেকেও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য যেন ফের আলোচনার কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর আজ তিনি দেশের বাইরে থাকলেও আত্মবিশ্বাস যে এতটুকু কমেনি, তা বুঝিয়ে দিলেন নিজেই। আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভার্চুয়াল সভায় যোগ দিয়ে জানিয়ে দিলেন, খুব শীঘ্রই তিনি দেশে ফিরছেন।
দলের কর্মীদের উদ্দেশ্যে এই বার্তা যেন এক নতুন শক্তি জুগিয়েছে আওয়ামী লীগ শিবিরে। হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘আমি খুব তাড়াতাড়ি ফিরব। চিন্তা করবেন না।’’ তাঁর কণ্ঠে ছিল দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আলোচনা চলাকালীন ইউনূস প্রসঙ্গে মুখ খুলতেই তাঁর বক্তব্য আরও বেশি চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রামীণ ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা মহম্মদ ইউনূস সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, একসময় ইউনূসকে তিনি দেশ ও গরীব মানুষের স্বার্থে সহযোগিতা করেছিলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছেন, গরীব মানুষের কষ্টার্জিত টাকা দিয়েই ইউনূস নিজের স্বপ্নের জীবন গড়েছেন। ক্ষুদ্র ঋণের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা সুদ আদায় করে বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা।
এখানেই ক্ষান্ত হননি শেখ হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘‘আজ বাংলাদেশের অশান্তির জন্য দায়ী একজনেরই ক্ষমতার লোভ। দেশের গরীব মানুষের টাকা দিয়ে নিজের স্বার্থসিদ্ধি করেছেন তিনি। অথচ একসময় আমি তাঁকে বিশ্বাস করেছিলাম।’’ এই বক্তব্যে যেমন অভিমান ছিল, তেমনই ছিল তীব্র ক্ষোভ।
এদিকে আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে পড়ুয়া আবু সায়েদের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে ওই পড়ুয়ার মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে। হাসিনার কথায়, ‘‘ওরা চাইছিল লাশ। চিকিৎসার সুযোগও দেয়নি।’’ সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যে ফের চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশ রাজনীতির পারদ।





