শিক্ষক হওয়া মানেই শুধু একটি পেশা নয়, সমাজ গঠনের এক বিশাল দায়িত্বও বটে। একটা সময় ছিল, যখন শিক্ষক মানেই ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রদ্ধার আসন গ্রহণ করা এক বিশেষ ব্যক্তি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চাকরিপ্রার্থী যুবসমাজ যখন বেকারত্বের যন্ত্রণায় কাতর, তখন নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ যেন আরও বেশি করে আহত করছে সাধারণ মানুষকে।
সম্প্রতি একের পর এক নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসায় রীতিমতো বিস্মিত গোটা রাজ্য। আদালতের রায়, তদন্তের রিপোর্ট, একের পর এক বেতন বন্ধ, চাকরি বাতিল — সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষা মহলে যেন তৈরি হয়েছে অশান্তির আবহ। আর এই অবস্থাতেই পাহাড়ের শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে সামনে এল আরও এক বিস্ফোরক ঘটনা।
জিটিএ (GTA) এলাকার শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল নানা স্তরে। জানা যায়, পাহাড়ের স্কুলে একাধিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনে নিয়োগ করা হয়েছে বলেই দাবি। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল সিআইডির (CID) হাতে। সেই তদন্ত রিপোর্ট পেশ হতেই নড়েচড়ে বসে আদালত। শুনানিতে আদালতে উঠে আসে বিস্ময়কর তথ্য। দেখা যায়, পাহাড়ের মোট ৩১৩ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা ঘিরে সন্দেহ, তো কারও প্রশিক্ষণের অভাব। এই পরিস্থিতিতে আদালত জানায়, রাজ্য কীভাবে এই সমস্ত শিক্ষকদের নিয়োগ করল, তা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে।
রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে উঠল প্রশ্ন, আদালতের সাফ বার্তা
কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই নিয়োগের কোনও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে রাজ্য সরকারকেই এর দায় নিতে হবে। ইতিমধ্যেই সিআইডির রিপোর্ট দেখে আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই শিক্ষকরা কীভাবে নিয়োগ পেলেন তা নিয়েই রয়েছে বড় প্রশ্ন। বিচারপতি বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, “এই নিয়োগপ্রাপ্তদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী? এদের ন্যূনতম প্রশিক্ষণ আছে তো?” আদালতের পর্যবেক্ষণ, নিয়োগের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে এত বড় দায়িত্ব কীভাবে দেওয়া হল, তা নিয়ে রাজ্যকেই জবাবদিহি করতে হবে।
রাজ্যকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, বন্ধ হবে ৩১৩ জন শিক্ষকের বেতন
সোমবারের শুনানিতে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট নির্দেশ দেন, পাহাড়ের ৩১৩ জন শিক্ষক যাঁদের নিয়োগ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তাঁদের বেতন বন্ধ করতে হবে অবিলম্বে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যকে ওই ৩১৩ জন শিক্ষকের সম্পূর্ণ তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ, নিয়োগ পদ্ধতি — সমস্ত কিছু জানাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : বাড়ছে নিম্নচাপের চোখ রাঙানি! সপ্তাহ জুড়ে কোথায় হবে ঝড়-বৃষ্টি, কোথায় নামবে তাপমাত্রা?
বৃহস্পতিবার ফের শুনানি, আদালতের নির্দেশ অমান্য হলে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত
আগামী বৃহস্পতিবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকার যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না জমা দেয়, তাহলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এও জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে রাজ্যকে বড় মূল্য দিতে হতে পারে। সেইসঙ্গে এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে বৃহস্পতিবারের শুনানির পর। ফলে পাহাড়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে আপাতত উত্তেজনা তুঙ্গে।





