জীবনে সফল হতে গেলে পড়াশোনা, পরিশ্রম আর ধৈর্যের কোনও বিকল্প নেই – এমনটাই শিখে বড় হয় আজকের প্রজন্ম। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন বোনা শুরু করে কেউ শিক্ষক হবেন, কেউ ডাক্তার, কেউ আবার ইঞ্জিনিয়ার। বিশেষ করে শিক্ষকতা, একটা সময় ছিল যখন এই পেশাকে শ্রদ্ধার আসনে বসানো হত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি যেন উল্টো ছবিই তুলে ধরছে। বছরের পর বছর পড়াশোনা করে, যোগ্যতার পরীক্ষা পাশ করে চাকরির স্বপ্ন দেখেছিলেন বহু তরুণ-তরুণী। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির কুপ্রভাব এতটাই পড়েছে যে, চাকরি থাকার পরেও তাঁদের পরিচয় আজ ‘চাকরিহারা’।
দীর্ঘ লড়াই, রাত-দিন পড়াশোনার পর যখন চাকরি পেয়েছিলেন, তখন পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছিল। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি কেড়ে নেওয়া হল অনেকেরই। একটা সময় স্কুল ছিল যাঁদের দ্বিতীয় বাড়ি, সেই স্কুলের পথেই আজ অনাগ্রহ তাঁদের। কারণ, যাঁরা নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদেরই আজ রাজপথে নামতে হয়েছে নিজেদের প্রমাণ দিতে। জীবনের কঠিন এই অধ্যায়ে তাঁরা দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র একটাই প্রশ্ন তুলছেন, ‘যোগ্যতার পরও কেন স্বেচ্ছাসেবক হতে হবে?’
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাকরিহারাদের উদ্দেশে জানিয়েছিলেন, আপাতত দু’মাস স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্কুলে কাজ করতে। পরে তিনি ক্ষতিপূরণ দেবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব কার্যত খারিজ করেছেন চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। তাঁদের স্পষ্ট কথা, ‘আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছিলাম, ভিখারির মতো স্বেচ্ছাসেবক হব কেন?’ মঙ্গলবার তাঁরা স্কুলে যাননি। বরং শহিদ মিনারে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন আরও জোরদার ভাবে।
এদিন চাকরিহারাদের নেতা মেহেবুব মণ্ডল জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের সমস্ত বিএড-এমএড পাশ করা ছেলে-মেয়েদের কি তাহলে স্বেচ্ছাশ্রমের আওতায় আনা হবে? আমরা যোগ্যতার ভিত্তিতে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছি। আমাদের চাকরি ফিরিয়ে না দিলে স্কুলে যাব না।’ শুধু তাই নয়, তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী এখনও অযোগ্যদের আড়াল করছেন। সোমবার নেতাজি ইনডোরের সভায় অযোগ্যরা কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : গরিবের ঘামে ইউনূসের বিলাসবহুল জীবন! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন শেখ হাসিনা, দিলেন কড়া হুঁশিয়ারি
অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতির জেরে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যাওয়ায় বেহাল দশা রাজ্যের বহু স্কুলের। কোথাও গ্রুপ ডি নেই, কোথাও কারণিকের অভাব। টার্ম পরীক্ষা বাতিল হয়েছে অনেক স্কুলে। একাদশ-দ্বাদশে বিভিন্ন বিভাগে পাঠদান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অথচ, সেই সব সমস্যার মাঝেও চাকরিহারা শিক্ষকদের একটাই দাবি, ‘যোগ্যতার স্বীকৃতি চাই, চাকরি ফেরত চাই। না হলে স্কুল নয়, শহিদ মিনারই আমাদের অস্ত্র হয়ে থাকবে।’





