আমেরিকার বিপদে ভারতের সাহায্য ভুলব না! ধন্যবাদ জানালেন জয়শঙ্কর‌ও

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় কম্পমান ভারত। ইতিমধ্যেই হারিয়ে গেছে প্রচুর প্রাণ। কোন‌ওভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি ভারতের পক্ষে। অক্সিজেনের অভাব, শয্যার অপ্রতুলতা, প্রতিষেধকের ব্যাপক চাহিদা সবকিছুতেই চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে ভারত সরকার। বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হতে হয়েছে মোদী ক্যাবিনেটকে। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এসেছে সাহায্য। প্রথমে টালবাহানা করলেও পরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় আমেরিকা।

বর্তমানে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রয়েছেন আমেরিকা সফরে। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি অ্যান্টনি ব্লিনকিন-র সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই ভারতের বিপদে পাশে থাকার জন্য আমেরিকাকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রত্যুত্তরে ধন্যবাদ জানায় আমেরিকা‌ও। করোনার প্রথম দফায় ভারত যেভাবে আমেরিকার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তার প্রশংসা করেন ব্লিনকিন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, করোনার প্রথম দফায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন কার্যকারী বলে জানা গিয়েছিল। আর তা উৎপাদনের বিশাল বড় দেশ হল ভারত। আমেরিকার উদ্দেশ্যে উড়ে যায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের বড় বড় পেটি। তখন অবশ্য ক্ষমতা ট্রাম্প। করোনা আবহেই গদি পরিবর্তন হয় আমেরিকার। ক্ষমতায় আসেন জো বাইডেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে আশ্বাস দিয়েও প্রথমদিকে জল মাপ ছিলেন বাইডেন। পরে অবশ্য বিপদে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন তিনি।

আরও পড়ুন:মুসলিম দেশ থেকে নিপীড়িত হয়ে আসা সংখ্যালঘু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল মোদী সরকার

বাইডেন শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম ভারতের তরফ থেকে আমেরিকা সফরে গেলেন কেউ। জয়শঙ্করের এই সফরে করোনা যুদ্ধ থেকে শুরু করে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে খবর।

বৈঠকের পর বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, “আমাদের মধ্যে আলোচনার অনেক বিষয় ছিল। বিগত কয়েক বছরে আমাদের সম্পর্ক আরও মজবুত হয়ে উঠেছে এবং আগামিদিনেও তা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলেই আমার বিশ্বাস। এর জন্য আমি ভারত ও আমেরিকা-দুই দেশের প্রশাসনকেই ধন্যবাদ জানাই। আমাদের কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য আমোরিকাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

আমেরিকার তরফেও বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, “করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে আমাদের দেশের পাশে দাড়িয়েছিল ভারত। সেই কথা আমরা কখনও ভুলব না। এখন আমরা যাতে ভারতের পাশে দাঁড়াতে পারি, সেই বিষয়টিই নিশ্চিত করতে চাই।”

সেই সঙ্গে তিনি জানাতে ভোলেননি আমেরিকা ও ভারতের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে যেন আরও গভীর এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠে সেই দিকে পূর্ণ নজর দেবেন তাঁরা।

RELATED Articles