মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যেন অদৃশ্য বারুদের গন্ধ। গত কয়েক সপ্তাহে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা এখন শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই—তার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং সামরিক কৌশলের প্রতিটি স্তরে। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যে টানটান পরিস্থিতি, তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে কী এমন ঘটতে চলেছে, যা নতুন মোড় এনে দিতে পারে এই সংঘাতে?
সূত্রের খবর, মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী উভচর আক্রমণকারী জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’কে যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০ হাজার টন ওজনের এই বিশাল জাহাজটি বর্তমানে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। সব ঠিক থাকলে ২২ বা ২৩ মার্চের মধ্যেই এটি উত্তর আরব সাগর হয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দিকে এগোতে পারে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই আমেরিকার সরাসরি সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ শুধুই একটি যুদ্ধজাহাজ নয়, একে ভাসমান সামরিক ঘাঁটিও বলা চলে। প্রায় ৮৪৪ ফুট দীর্ঘ এই জাহাজে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, এমভি-২২ ওসপ্রে এবং এমএইচ-৬০এস সিহক হেলিকপ্টার। পাশাপাশি, ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের ২০০০-এরও বেশি মেরিন এতে মোতায়েন থাকতে পারে। অর্থাৎ, প্রয়োজন পড়লে আকাশ, জল এবং স্থল—তিন ক্ষেত্রেই একযোগে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এই জাহাজের।
এই পরিস্থিতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী—যা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ এটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের একাধিক হামলার জেরে এখানে আটকে পড়েছে বহু তেলবাহী ট্যাঙ্কার। প্রণালীর সংকীর্ণতা—মাত্র ৩৩ কিমি—এটিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ফলে যেকোনও অবরোধ বা হামলা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, যার ফলে জ্বালানির দামও বাড়ছে দ্রুতগতিতে।
আরও পড়ুনঃ অসুস্থ স্ত্রীর লড়াইয়ের মাঝেই অন্য সম্পর্কে জড়ালেন নায়ক! বিয়ে করা বউয়ের ‘টি*উমার’ ধরা পড়তেই রাতারাতি সঙ্গিনী বদলের সিদ্ধান্ত! বিতর্কিত ঘটনায়, চাঞ্চল্য ফিল্মপাড়ায়!
এই অবস্থায় আমেরিকার নতুন কৌশল নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। মিত্র দেশগুলিকে টাকা নিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ পার করানোর প্রস্তাব ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইরান জানিয়ে দিয়েছে—যেসব জাহাজের সঙ্গে আমেরিকা বা ইজরায়েলের যোগ নেই, তাদের আটকানো হবে না। তবে বাস্তবে হামলা থামেনি, এবং ইতিমধ্যেই একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ভারতীয় নাবিকরাও রয়েছেন। সব মিলিয়ে, ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’-র সম্ভাব্য প্রবেশ শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়—এটি বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।





