কবে শেষ হবে কলিযুগ? সত্যযুগ আবার কখন আসবে? যুদ্ধ হবে কি? হলে সেটা কতটা ভয়ঙ্কর হবে?—এই সব প্রশ্ন চিরকাল তাড়িয়ে বেড়ায় সনাতন ধারার অনুসারীদের। ধর্মীয় ইতিহাস ও প্রাচীন জ্যোতিষচর্চায় বিশ্বাসীরা বহুদিন ধরেই খোঁজ করে চলেছেন এমন কোনও সূত্রের, যেখানে লেখা আছে ভবিষ্যতের সেই গোপন রহস্য। আর ঠিক এমন এক দলিল হিসেবেই বহু বছর আগে রচিত হয়েছিল ‘ভবিষ্যমালিকা’। ওডিশার শ্রদ্ধেয় সাধু স্বামী অচ্যুতানন্দ এই বইয়ে এমন কিছু কথার উল্লেখ করেছেন, যা আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে চমকে দিচ্ছে সকলকে।
এই গ্রন্থ অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে গোটা বিশ্ব এক ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন হবে। শুধু যুদ্ধ নয়, সেই সংঘর্ষ হবে পরমাণু যুদ্ধ, যা ধ্বংসের এক নতুন ইতিহাস লিখবে। অচ্যুতানন্দ দাবি করেছিলেন, শনি যখন মীন রাশির ঘরে প্রবেশ করবে, তখনই এই যুদ্ধ শুরু হবে। কাকতালীয়ভাবে, ২০২৫-এর মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা ও যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ—যুদ্ধ, ধর্মীয় সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক চাপে টালমাটাল বিশ্ব। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ৬০০ বছর আগে লেখা সেই কথা কি সত্যিই এখন বাস্তব হয়ে উঠছে?
ভবিষ্যমালিকায় বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ হবে ক্ষমতার লোভ, সম্পদের অধিকার এবং ধর্মীয় আধিপত্যের প্রশ্নে। একাধিক দেশ এতে জড়িয়ে পড়বে এবং কেউই রেহাই পাবে না। সর্বনাশা এই সংঘর্ষে পৃথিবীর জনসংখ্যার ৬২.৫ শতাংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। মাত্র ৩৭.৫ শতাংশ মানুষ টিকে থাকবে। তবে সবটাই শেষ হয়ে যাবে না—এই ধ্বংসের মধ্য দিয়েই মানবজাতি প্রবেশ করবে এক নতুন যুগে। অচ্যুতানন্দ বলছেন, এই যুদ্ধ আসলে মহাভারতের অসমাপ্ত অংশের পুনরাবৃত্তি।
এই ভয়াবহ সময়ে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেই ভবিষ্যমালিকায় উল্লেখ আছে। অচ্যুতানন্দের মতে, ভারত তখন বিশ্বকে আধ্যাত্মিক দিশা দেখাবে। একাধারে গুরু, আবার যোদ্ধা—এই দ্বৈত ভূমিকায় দেখা যাবে ভারতকে। তবে এ দেশের মাটিও রেহাই পাবে না, কারণ শনি যখন রাশিচক্রের শেষ রাশি মীনে প্রবেশ করবে, তখন ভারতের মাটিতেও যুদ্ধ অনিবার্য। বাস্তবেও আমরা দেখেছি, সীমান্তে একের পর এক উত্তেজনার ছবি। কি তবে, ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী সবকিছু ধাপে ধাপে মিলে যাচ্ছে?
আরও পড়ুনঃ Bharat Mata Controversy: গান্ধীর ছবিতে আপত্তি গভর্ণরের? SFI’র কোথায়, রাজভবন হচ্ছে RSS শাখা!
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য, এই গ্রন্থে বলা হয়েছে—যুদ্ধ শেষে বিশ্বের আধ্যাত্মিক দিশা বদলে যাবে। ২০৩২ সালের মধ্যেই সনাতন ধর্ম হবে বিশ্বের প্রধান বিশ্বাসপদ্ধতি। অর্থাৎ, এক মহাধ্বংসের পর এক মহাজাগরণের জন্ম হবে! ওডিয়া ভাষায় লেখা এই ‘ভবিষ্যমালিকা’ শুধু এক ভবিষ্যদ্বাণী নয়, বরং শাশ্বত সত্যের এক গোপন দলিল, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লুকিয়ে থেকেছে। এখন প্রশ্ন, সেটা কি এবার সত্যি রূপ নিচ্ছে?






