বর্ষা নামতেই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে মশাবাহিত রোগ। বৃষ্টি নামার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে জলের জমা, আর সেখান থেকেই জন্ম নিচ্ছে বিপজ্জনক মশা। প্রতিবছর এই সময়ে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া নিয়ে শহরের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। যদিও প্রশাসনের দাবি, মশা মারতে এবং জমা জলে নজর রাখতে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবু একাধিক জায়গা থেকে সংক্রমণের খবর মিলতে শুরু করেছে।
সম্প্রতি দমদমের একটি ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মনজেন্দ্র দত্ত রোডের বাসিন্দা ১৩ বছরের এক কিশোরী, সারণী বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। সে বৈদ্যনাথ গার্লস হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ১৯ জুন থেকে কলকাতার তপসিয়া এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল সে। ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
সারণীর মা গীতিকা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সেখানে উপযুক্ত চিকিৎসা হয়নি। তার কথায়, “ওকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়েই একের পর এক জায়গায় ঘুরেছি। প্রথম হাসপাতাল জানায় ওকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে, কিন্তু ওদের কাছে শিশুদের জন্য ভেন্টিলেশনই নেই! এরপর অন্য হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু তখন শরীরের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল, ফুসফুসে জল জমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল পুরোপুরি বের করা সম্ভব হয়নি।”
শেষপর্যন্ত শনিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তার মৃত্যু হয়। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। হাসপাতাল সূত্রে মৃতের ডেথ সার্টিফিকেটে ডেঙ্গির কথা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। স্বাস্থ্যভবনের তরফে জানানো হয়েছে, দমদম এলাকায় এখন পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দুই। কিন্তু এই মৃত্যুর জেরে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ডেঙ্গির প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে, যা হয়তো এখনও সামনে আসেনি?
আরও পড়ুনঃ World War 3 Predictions in Bhavishya Malika: বিশ্বযুদ্ধের পূর্বাভাস! ‘ভবিষ্যমালিকা’-য় লেখা ৬০০ বছরের পুরনো সেই অশুভ সতর্কবার্তা আজও কি সত্যি হচ্ছে?
দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান হরেন্দ্র সিং জানান, “মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি জানার পর এলাকা পরীক্ষা করেছি। কোথাও মশার লার্ভা পাইনি। তবে পরিবার দিঘা গিয়েছিল, তাই কোথা থেকে সংক্রমণ হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—শহরের বুকে আর কতজন সারণী সময়ের আগেই প্রাণ হারাবে এই উপেক্ষিত বিপদের কাছে? প্রশাসনের তরফে এখন সময় সতর্কতা ও প্রতিরোধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার।





