ভারতমাতা, গান্ধী ও আবেদকরের ছবি—এই প্রতীকগুলো যেন আজ রাজনীতির কেন্দ্রে। ভারতমাতার ছবি সরকারি ভবনে কেন থাকবে? কার ছবি থাকলে আপত্তি, কার ছবি থাকলে সম্মান? এ নিয়ে ফের নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। আর সেই সূত্রেই শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠল কেরালার রাজভবনের সামনের এলাকা। বিতর্কের সূত্রপাত হয় কেরালার রাজভবনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ‘ভারতমাতা’র ছবি ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এই ছবি ঘিরেই প্রতিবাদ জানায় স্টুডেন্টস ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, যা সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠন হিসেবে পরিচিত। তাদের অভিযোগ, সরকারী অনুষ্ঠানে এই প্রতিকৃতি ব্যবহার আদতে এক বিশেষ মতাদর্শকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। সেই সঙ্গে রাজভবনে আরএসএস-এর দুই প্রতিষ্ঠাতা এম এস গোলওয়ালকার এবং কেবি হেজগেওয়ারের ছবি থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত একটি সিনেট সভার আগে SFI কর্মীরা ফটকে মহাত্মা গান্ধী এবং ডঃ বি আর আম্বেদকরের ছবি তুলে ধরেন। তাঁদের হাতে ছিল একটি ব্যানার যেখানে লেখা ছিল, “আমরা চ্যান্সেলর চাই, গান্ধী হত্যাকারী সাবর্কর নয়।” কিন্তু সেই ব্যানার পুলিশ খুলে দেয়। এরপর ফের আরেকটি ব্যানার নিয়ে এগোতে গেলে সেটিও আটকানো হয়। রাজ্য SFI সভাপতি এম সিবাপ্রসাদ দাবি করেন, রাজ্যপালের দফতর সাফ জানিয়েছে—যেখানে গান্ধীর ছবি থাকবে, সেখানে রাজ্যপাল প্রবেশ করবেন না। এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
SFI স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কেরালার রাজভবনকে আরএসএসের ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। সেই কারণেই ভারতমাতার ছবি থেকে শুরু করে আরএসএস চিন্তাধারার দুই পথপ্রদর্শকের ছবিও স্থান পাচ্ছে সেখানে। এম সিবাপ্রসাদ বলেন, “গোডসে গান্ধীকে খুন করেছিল, আর এখন তার উত্তরসূরিরা গান্ধীর ছবির বিরুদ্ধাচরণ করছে। এটা কি তাদের প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা?” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যপাল আসলে RSS-এর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছেন।
এই যে ‘ভারতমাতা’ ছবিকে ঘিরে এত বিতর্ক, তা আদতে প্রথম প্রকাশ পায় ১৯০৫ সালে, শিল্পী অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাতে। এক কেশরীয় বসনা পরিহিতা নারী, চার হাতে আশীর্বাদ করছেন খাদ্য, বস্ত্র, জ্ঞান ও বিশ্বাসের প্রতীকরূপে—এই চিত্র আজও জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আজ সেই প্রতীক নিয়েই দেখা দিচ্ছে দ্বন্দ্ব—এ কি একমাত্র ভারতমাতার ভাবনাই, না কি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে কোনও গোপন মতাদর্শ?
আরও পড়ুনঃ অম্বুবাচীর সময় সাবধানতা জরুরি! দেবীর রোষে বিপদ ডেকে আনতে পারে একটি সামান্য ভুলও
কেরালার এই ঘটনা ফের একবার দেখিয়ে দিল, প্রতীক এবং ইতিহাস রাজনীতিতে কতটা শক্তিশালী অস্ত্র হতে পারে। ভারতমাতার মতো চিত্রকেও আজ রাজনৈতিক বিভাজনের কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—সরকারি ভবনে আদর্শের ছবি টাঙানো কি যুক্তিযুক্ত? নাকি তাতে আরও বিভাজন তৈরি হচ্ছে দেশের অভ্যন্তরে?






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার