বীরভূমের (Birbhum) রাজনীতিতে এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এক সময় যার বিরোধীতা করতেন, আজ সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে সম্মান জানালেন। এই রাজনৈতিক সম্পর্কের মেলবন্ধন কিভাবে ঘটল? রাজনীতির মঞ্চে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সেই মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তিশালী দুই নেতার মধ্যে সম্পর্কের নূতন অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। এই মেলবন্ধনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল এবং তার বিরোধী নেতা কাজল শেখের মধ্যে সম্পর্কের এই পরিবর্তনকে অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। এক সময় একে অপরকে আক্রমণ করতে পিছপা হয়নি তারা। বিরোধিতার এমন জোরালো মঞ্চে যেখানে একে অপরের বিরুদ্ধে মন্তব্য ও পদক্ষেপ ছিল অব্যাহত, সেখানে এমন মেলবন্ধন ঘটল কিভাবে? তবে, এর পেছনে রয়েছে কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল এবং দিকনির্দেশনা, যা একেবারে নীরবে পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের প্রতি মনোভাব ও পদক্ষেপ পরিবর্তন করাটা কোনও নতুন ঘটনা নয়, কিন্তু বীরভূমের এই ঘটনাটি একেবারে ব্যতিক্রম। কাজল শেখের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অনুব্রত মণ্ডলের পক্ষ থেকে কাজল শেখকে আশীর্বাদ করা যে একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে, এই মিলনটিকে ঘিরে অনেকেই নানা প্রশ্ন তুলছেন, তবে কিছু পুরনো ঘটনা ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি হামলার ঘটনা এই মেলবন্ধনের পেছনে ভূমিকা রাখে বলে মনে করা হচ্ছে।
একটি হামলার পর পরিস্থিতি বদলানোর আভাস মিলেছিল। রিঙ্কু চৌধুরী, যিনি এক সময় অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল। এই হামলার পেছনে কাজল শেখের অনুগামীদের হাত থাকার অভিযোগ ওঠে। তবে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জানা যাচ্ছে যে এই হামলার ঘটনাটি কাজল শেখের অনুগামীদের নয়। হামলার কারণ ও এর পেছনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কি, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।
আরও পড়ুনঃ মালদহে ফের গু’লি, তৃণমূল নেতা নিহ’ত, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অশনি সঙ্কেত!
এদিকে, এই হামলার পরেই কাজল শেখ এবং অনুব্রত মণ্ডলের মধ্যে এক অদ্ভুত সম্পর্কের পরিবর্তন দেখা যায়। সম্প্রতি, অনুব্রত মণ্ডল নিজে কাজল শেখকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। এই ঘটনাটি বীরভূমের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু করেছে।





