Bangladesh: হাদি হ*ত্যার পর আরও ভয়াবহ ছবি, এবার খুলনায় এনসিপি নেতাকে খুনে*র চেষ্টা—বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসা কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিংসার ছায়া যেন আর পিছু ছাড়ছে না। একের পর এক ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ, আতঙ্ক। সম্প্রতি ঢাকায় এক রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুকে ঘিরে যে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার রেশ এখনও কাটেনি। সেই আবহেই আবারও রক্তাক্ত হল বাংলাদেশ। এবারের ঘটনা রাজধানী ছাড়িয়ে পৌঁছল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের গুরুত্বপূর্ণ শহর খুলনায়। দিনের আলোয়, জনবসতির মাঝেই ঘটে গেল এমন এক হামলা, যা নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে।

সোমবার সকালটা খুলনায় শুরু হয়েছিল একেবারে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু বেলা বাড়তেই আচমকা উত্তেজনা ছড়ায় সোনাডাঙা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হঠাৎই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই গুলি চালায়। লক্ষ্য ছিলেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির এক শীর্ষ নেতা। গুলিটি লাগে তাঁর মাথার বাঁ দিকে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। চারদিকে চিৎকার, আতঙ্ক—কিছু বোঝার আগেই হামলাকারীরা চম্পট দেয়।

আহত নেতাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকেরা তাঁর মাথার সিটি স্ক্যানের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং তাঁকে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর চিকিৎসা চলছে, তবে শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এই হামলায় যিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তিনি হলেন মহম্মদ মোতালেব শিকদার। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক হওয়ার পাশাপাশি তিনি দলের শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই খুলনায় একটি বড় শ্রমিক সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল এবং সেই কাজেই ব্যস্ত ছিলেন শিকদার। অনেকের মতে, এই রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গেই হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে, যদিও তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : “নতুন দল গড়েই বিস্ফো*রক চাল হুমায়ুন কবীরের”—মুর্শিদাবাদে একই নামে ৪ প্রার্থী কেন?

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সোনাডাঙা থানার তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। এই হামলার সময়কাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কিছুদিন আগেই ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়ে অশান্তি ছড়ায়। সেই ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ, পথ অবরোধ ও হিংসার খবর সামনে আসছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মোতালেব শিকদারের উপর হামলা প্রমাণ করছে—বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসা আর বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়, বরং তা ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles