“Social Status” এর জোরেই শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন প্রথমের মতো দ্বিতীয় লন্ডন ফিরতি

ঠিক যেন প্রথম ঘটনার পুনর্নির্মাণ। আজকাল এমনিতেই ভাইরাসের জেরে কেউ বিদেশ থেকে এসেছে শুনলে আনন্দের আগে ভয়ের সাথে তাকান সাধারণ মানুষজন। আর তারপর আজকাল লন্ডন ফিরতিরা কলকাতার মানুষকে একটু বেশিই নাজেহাল করে ছেড়েছে। ইংল্যান্ড ফেরত কলকাতার প্রথম করোনা আক্রান্ত তরুণ যে চূড়ান্ত অবিবেচকের পরিচয় দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় তরুণও যেন ঠিক তাই করে বেড়ালেন। আর এক্ষেত্রেও সেই শিক্ষিত ও বিত্তশালী সমাজের “স্ট্যাটাস” ই চোখে পড়ল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ” শিক্ষিত সমাজ” এর কাছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারাই সচেতন হতে অক্ষম। তাহলে কি লাভ এত শিক্ষিত হয়ে বিলেত ফেরত তকমার। সেই তো আর পাঁচটা অশিক্ষিতের মতোই আচরণ। গোটা বিশ্ব যখন করোনায় বিপর্যস্ত, তখন সেই লন্ডন থেকে ফিরে কলকাতায় কয়েকদিন ধরে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়ালেন দ্বিতীয় করোনা আক্রান্ত তরুণ। বালীগঞ্জের বিলাসবহুল আবাসনে ১৩ তারিখ লন্ডন থেকে কলকাতায় আসেন কোরোনা সংক্রমনকারী দ্বিতীয় তরুণ। বিমানবন্দরেই তাঁকে ১৪ দিন হোম কোয়ারানটিনে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা তার কানেই পৌঁছায় নিজ। বরং তারপর রীতিমত বাবার দোকান থেকে প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের শপিং মল আবার কখনও রাসবিহারীর শপিং মল থেকে কলকাতার নামকরা রেস্তোরাঁ- সব জায়গাতেই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন নির্দ্বিধায়।

দক্ষিণ কলকাতার এসপি মুখার্জি রোড এবং ঈশ্বর গাঙ্গুলি স্ট্রিটে বাবার বাথরুম ফিটিংসের বিরাট ব দুটি বড় দোকান। ওই দোকান দুটির একটিতে একাধিক দিন গিয়েছেন ওই তরুণ। সেই সময়ে দোকানের অন্যান্য কর্মী, গ্রাহকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বিদেশ থেকে এসে এরমভাবে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুললেও তাতে কিছুই যায় আসেনি সে বা তাঁর বাবা। অভিযোগ এমনটাই করেছেন অনেকে। আবার ওই আবাসনেই থাকেন কলকাতার এক মেয়র পারিষদ। গোটা ঘটনায় তিনিও রুষ্ট।

শুরু থেকে অবশ্য ওই তরুণের সংক্রমণের কোনও লক্ষণ ছিল না। তবে ২-৩ দিন আগে সর্দি-কাশি শুরু হয়। তারপরও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে যাননি তিনি।গতকাল স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে পুলিশে খবর দিলে তারা খবর পাঠায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে। সেখানকার নির্দেশেই অবশেষে বেলেঘাটা আইডি’ তে আনা হয় তাঁকে। রিপোর্ট আসার পর দেখা যায় সে COVID-19 পজিটিভ। এই কদিনে অবশ্য গোটা আবাসনেই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। পাড়ার দোকান থেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা কোনোটাই বাদ দেননি ফলে তাঁর সরাসরি সংস্পর্শে এসেছেন অনেক মানুষ। গোটা ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও ওই আবাসনের বাকিরা। ইতোমধ্যে তরুণের বাবা-মা-ঠাকুমা-ঠাকুরদা’কে রাজারহাটে কোয়ারানটিন সেন্টারে রাখা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত কলকাতার প্রথম তরুণও রবিবার ইংল্যান্ড থেকে ফিরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষএর নির্দেশ কার্যত অবজ্ঞা করেন এবং বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যেতে বলা হলেও তিনি যাননি। এরপর সোমবার মায়ের প্রভাব খাটিয়ে এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে যান ওই তরুণ। সেখান থেকে তাঁকে ফের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে যেতে বলা হলে তিনি জানিয়ে দেন, ‘আমি যাব না’।

এরপর নবান্ন থেকে কলকাতার একাধিক জায়গায় ঘুরে বেড়ান ওই তরুণ। শুধু তাই নয়, নিজের আবাসনের বন্ধুদের সঙ্গেও একাধিকবার আড্ডা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে এখন ক্ষোভ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই আবাসনের বাসিন্দারাও। শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সমাজকে আরো অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করে না। যাদের উচিত মানুষকে সচেতন করা তারাই উল্টে সমাজের ক্ষতিসাধন করেছে। তাহলে কি তাদের সত্যি শিক্ষিত বলা চলে নাকি বাবা-মা এর প্রতিপত্তির প্রভাব।

RELATED Articles

Leave a Comment