রাজ্যে বিধানসভা ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আরও বেশি দৃঢ় হচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি সংঘাত। সম্প্রতি, তা আরও বেশীমাত্রায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য একটি সংবাদপত্রের একটি অংশ কেটে তার ছবি টুইট করে লেখেন যে মেটিয়াব্রুজে সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টুইটে তিনি লেখেন, “মেটিয়াব্রুজ নির্বাচন কেন্দ্র যাকে তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম ‘মিনি পাকিস্তান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই অংশে গত এক বছরে ভোটারদের সংখ্যা ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ, পিসি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজের রাজনৈতিক কারণের জন্য এই বিষয়ে সম্পূর্ণ চুপ। নির্বাচন কমিশন কী এই দিকে খেয়াল রাখছেন?”
অমিতের পোস্ট করা ওই সংবাদপত্রের অংশ অনুযায়ী, মেটিয়াব্রুজ নির্বাচন কেন্দ্র ও তপসিয়া অঞ্চলে অদ্ভুতভাবে ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছ। এই বিষয়ে সিপিএম নেতা রবীন দেব বলেছেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনেই প্রহসন হয়েছে। যেসমস্ত ভোটার মারা গিয়েছেন, তাদের নাম ওরা তালিকা থেকে বাদ দেয়নি। কমিউনিস্ট পার্টি চায় যে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে তদারকি করুক। যদি কেউ মারা যান, তবে যেন তাঁর পরিবারের কাছ থেকে তা যাচাই করা হয় বা পুরসভা বা পঞ্চায়েতের ডেথ রেজিস্টার দেখে সেই সত্যতা বিচার করা হয়”।
এই বিষয়ে বিজেপি অভিযোগ তোলে যে, সেইসমস্ত এলাকায় সঠিক খোঁজ নেওয়া হয়নি। বুথ লেভেল অফিসাররা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের থেকে সঠিক কোনও খোঁজ নেননি। দেখা গিয়েছে যে, মেটিয়াব্রুজ নির্বাচন কেন্দ্রে গত এক বছরে প্রায় ১৯,৫০০ ভোটার বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরের লোকসভা ভোটের সময় দেখা যায় এই নির্বাচন কেন্দ্র থেকে ২,৩৫,১০৫ মানুষ ভোট দিতে সক্ষম। কিন্তু যখন ভোটার তালিকা বের করা হয়, তখন তাতে দেখা যায় সেই ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৫২,৬১৫-এ। এরকম একই ঘটনা ঘটেছে তপসিয়াতেও। দেখা গিয়েছে যে মেটিয়াব্রুজের ১৩৭, ১৩৮ ও ১৪১ নং ওয়ার্ডে যথাক্রমে ৪০০, ৪৫০, ও ৯০০ ভোটার মারা গিয়েছেন, অথচ তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি।
এই বিষয়ে বিজেপির তরফ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত করতে বলা হয়। চিঠিতে এও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, গত কিছু নির্বাচনে এইভাবেই ভোট পেয়ে আসছে তৃণমূল।





