একটা ছোট্ট মেয়ের অকাল মৃত্যু কীভাবে এক পরিবারকে ভিতর থেকে গুঁড়িয়ে দেয়, তা দেখে বুক কেঁপে ওঠে সকলের। যাদের ঘরে হাসি-খুশিতে ভরতি ছিল দিনরাত্রি, এক মুহূর্তেই সেখানে নেমে এল ঘন অন্ধকার। চোখের সামনে ধুঁকতে ধুঁকতে চলে গেল মাত্র তিন বছরের ছোট্ট প্রাণ। বাবা-মায়ের বুকের ধন যে আর কোনও দিন ফিরে আসবে না — এ সত্যি মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।
আসলে বাবা-মা যা পারেন না, তা একমাত্র পারে সময়মতো চিকিৎসা। কিন্তু সেই আশাটুকুও ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। দীর্ঘ আট মাস ধরে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করার পরও শেষরক্ষা হল না। মেয়েকে বাঁচানোর হাজার চেষ্টা সত্ত্বেও আজ শূন্য হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে অনুশ্রীর পরিবারকে। আর তাই বুকের যন্ত্রণায় কেঁদে কেঁদে তাঁরা শুধুই একটাই কথা বলছেন — ‘ওষুধ যদি সময়মতো পেত, তাহলে হয়তো আমাদের অনুশ্রী বেঁচে যেত।’
ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের। বছর তিনেকের অনুশ্রী ধর একেবারে বিরল রোগ Gaucher Disease-এ (গাউচার ডিজিজ) আক্রান্ত ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সময়মতো এনজাইম রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (Enzyme Replacement Therapy) শুরু করতে পারলে প্রাণে বাঁচতে পারত ছোট্ট অনুশ্রী। কিন্তু সেই ওষুধ আসতেই আট মাস কেটে গেল।
পরিবার জানিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে (SSKM Hospital) মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে অনুশ্রীর চিকিৎসার আবেদন জানানো হয়েছিল। অনুশ্রীকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএমের annex building-এ। ন’দিন ভর্তি থাকার পর কোনওভাবে ওষুধ ছাড়াই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ‘ওষুধ এলেই ফোন করা হবে।’ সেই ফোন আর এল না। এসএসকেএম-র দিকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাবা বিপ্লব ধর এবং মা শিখা রানি ধর। তাঁদের সাফ কথা, ‘সরকারি হাসপাতালের ভরসায় ছিলাম বলেই আজ আমাদের কোল খালি।’
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : মোদী-ইউনুস সাক্ষাতের পর তোলপাড় বাংলাদেশ! ‘RAW’-এর কোটি কোটি টাকার এজেন্ট ছড়িয়ে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চক্রান্ত!
অবশেষে, ৩০ মার্চ অনুশ্রী চলে যায় না-ফেরার দেশে। মাথার উপর থেকে যেন ছায়াটাই সরে গেল। মেয়ের ছবি বুকে চেপে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা। গলা ধরে এসেছে বাবারও। এখন তাঁদের একটাই অনুরোধ — “যাতে আর কারও সন্তানকে এইভাবে মরতে না হয়।” চিকিৎসক মহলও বলছেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। কারণ, পূর্ব ভারতে বিরল রোগের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এসএসকেএম (SSKM)-এ যদি এমনটা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কত অনুশ্রীর প্রাণ যাবে — সেটাই বড় প্রশ্ন।





