শনিবার বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে অশান্তি আরও একবার চরম আকারে পৌঁছেছে। প্রতিবাদের নামে শুরু হওয়া ভাঙচুর এবং অবরোধে স্থানীয় জনগণ সহ্য করতে না পেরে রাস্তায় নেমেছে, আর সেই উত্তেজনার মাঝে আক্রান্ত হয়েছেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। গত শুক্রবারও সাংবাদিকরা দমনাত্মক হামলার শিকার হয়েছিলেন। আজ আবার টার্গেট হয়েছে সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিক।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বড়ুয়া মোড়ে, যেখানে স্থানীয়রা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল। খবর করতে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ এবং চিত্র সাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ। হঠাৎই কিছু বিক্ষোভকারী মারমুখী হয়ে তাদের দিকে ছুটে আসে। ক্যামেরা বন্ধ করার জন্য জবরদস্তি করা শুরু হয়, ধাক্কাধাক্কি, ঘুষি লাথি—সবই চলে। স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতি অত্যন্ত নগণ্য ছিল, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়নি।
জীবন রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে সাংবাদিকরা আশ্রয় নেন নিকটস্থ স্থানীয়দের বাড়িতে। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ছিল অস্থায়ী। বিক্ষোভকারীরা বাড়ির মধ্যে পর্যন্ত ঢুকে হামলা চালায়। চিত্র সাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষ শেষপর্যন্ত বাইকে চড়ে, আর পার্থপ্রতিম ঘোষ স্থানীয় বাসিন্দার বাড়ি থেকে বেরিয়ে অন্য একটি মোটরবাইকে করে নিরাপদ এলাকা পর্যন্ত পৌঁছান। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, ভয়াবহতার সময় পুলিশ কার্যত কার্যকরভাবে উপস্থিত ছিল না।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, “পুলিশকে দেখেও কেউ এগিয়ে আসেনি। আমরা দেখলাম, তাদের হাতে গোনা কয়েকজনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা চলছিল।” ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন পুলিশের উপস্থিতি এত কম ছিল, কেন অবরোধ দীর্ঘ সময় ধরে চললো, এবং কেন সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য তৎপর হওয়া হলো না।
আরও পড়ুনঃ Beldanga : “অবরোধ তুলুন”—হুমায়ুন কবীরের ডাকে কান না দিয়ে বরুয়া মোড় দখল, সাংবাদিক হেনস্তার মাঝেই ফের উত্তাল বেলডাঙা!
বেলডাঙায় শনিবারের এই অশান্তি একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবাদের নামে যাতে স্থানীয় অরাজকতা না ছড়ায়, সাংবাদিকরা যেন নিরাপদে খবর করতে পারে—সেটি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, নইলে সাংবাদিকতা চলবে ভয় আর হুমকির ছায়ায়।






