মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শান্ত পরিবেশের মানুষরা হঠাৎ করেই আতঙ্কে ভোগা শুরু করেন, যখন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষ এখনো মানসিকভাবে সঙ্কুচিত, কারণ ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং পুরো এলাকার নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতির প্রশ্ন তুলেছে।
শুক্রবার সকালে বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রামের বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (৩০) ঝাড়খণ্ড থেকে বাড়ি ফেরেননি। পরবর্তী সময়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁকে কেবল মৃত্যু দেয়াই নয়, তার আগে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। এই ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে পথে নামেন।
বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেললাইন অবরোধ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন। উন্মত্ত জনতার হাতে ভাঙচুরের শিকার হয় পুলিশি যানবাহন এবং রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্ক। সেই সঙ্গে অন্তত ১২ জন আহত হন ইট-পাথরের আঘাতে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে, যখন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জি সাংবাদিক সোমা মাইতিকে (Soma Maity) বেধড়ক মারধর করা হয়। তার হাত-পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
শনিবার মালদহের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) দায়ী করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় মেয়েদের কোনও সুরক্ষা নেই। আমরা দেখেছি, তৃণমূলের গুন্ডারা এক মহিলা সাংবাদিককে নির্মমভাবে মারধর করেছে। রাজ্যে মা-বোনেদের ওপর হেনস্থা বেড়েছে এবং অপরাধের গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।” মোদী আরও বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং রাজ্যের প্রকৃত গরিব মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণে এই হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Bendanga Violence : সংবাদমাধ্যমের উপর তাণ্ডবের দ্বিতীয় দিন! বেলডাঙায় আক্র*মণ, রাজ্যের পুলিশের ব্যর্থতা ফের প্রশ্নের মুখে!
এই ঘটনায় স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া কঠোর। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, যেন আগামী দিনে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে। বেলডাঙার এই অশান্তি রাজ্যের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক দায়বদ্ধতার দিকে নজর দিতে বাধ্য করছে।





