মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা—এই নামটা যেন অশান্তির প্রতিশব্দ হয়ে উঠছে। শুক্রবারের উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকাল থেকে ফের অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় এলাকায়। কোথাও হঠাৎ জমে ওঠা ভিড়, কোথাও রাস্তা আটকে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ফের আতঙ্ক। দিনের শুরুতেই প্রশ্ন উঠতে থাকে, আদৌ কি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? নাকি আগের দিনের মতোই ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে বেলডাঙা?
সকাল থেকেই বেলডাঙার বরুয়া মোড় এলাকায় দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রথম দিকে এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। সেই সুযোগেই বিক্ষোভ ধীরে ধীরে তাণ্ডবের রূপ নেয়। জাতীয় সড়ক থেকে শুরু করে রেললাইন—একাধিক জায়গা কার্যত দখলে নেয় উত্তেজিত জনতা। চিৎকার, হুমকি, স্লোগানে ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরে উত্তেজনা বাড়তেই এলাকায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই বরুয়া মোড়ে হাজির হন সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বিক্ষোভকারীদের অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন—আগের দিন যা হয়েছে, তার পর আবার কেন এই অবরোধ? কিন্তু তাঁর কথায় বিশেষ কাজ হয়নি। উত্তেজিত জনতা আরও মারমুখী হয়ে ওঠে। সংবাদমাধ্যমকেও লক্ষ্য করা হয়। সাংবাদিকদের ঠেলে বের করে দেওয়া হয় এলাকা থেকে, কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল। ইট-পাটকেল ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে জি সাংবাদিক সোমা মাইতি এবং চিত্র সাংবাদিক রঞ্জিত মাহাতো আক্রান্ত হন। রাস্তায় ফেলে মারধরের অভিযোগ ওঠে। শনিবার একই এলাকায় সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিককেও মারমুখী জনতার সামনে পড়তে হয়। প্রাণ হাতে করে তাঁদের এলাকা ছাড়তে হয় বলে জানা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ Beldanga : বিহারে পরিযায়ীদের হেনস্তার অভিযোগে বেলডাঙায় তাণ্ডব, থমকে গেল ট্রেন-যান চলাচল!
তবে এই গোটা অশান্তির সূত্রপাত কোথায়? স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ডের বিসরামপুরে এক পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম আলাউদ্দিন শেখ, বাড়ি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। তাঁর দেহ গ্রামে পৌঁছনোর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আত্মীয় ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃতদেহ নিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা ধীরে ধীরে অরাজকতার রূপ নেয়। পরিবার সূত্রে দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। মাঝেমধ্যেই আতঙ্কের কথা বাড়িতে বলতেন তিনি। সেই মৃত্যু ঘিরেই আপাতত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বেলডাঙা।





