বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া বিজেপির নবান্ন অভিযান ঘিরে ঝামেলা এখনো অব্যাহত বঙ্গে। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বারবার তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। তবে সবথেকে আলোচনার বিষয় যেটি সেটি হল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির মাঝে এক শিখ দেহরক্ষীর পাগড়ী খুলে যাওয়া। ওই দেহরক্ষীর কাছ থেকেই আবার বিজেপির শান্তিপূর্ণ মিছিলে শান্তি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। মিলেছিল রিভলবার।
আসল ঘটনা হলো বিজেপির নবান্ন চলো আন্দোলনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া নিয়ে। শুক্রবার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় অভিযুক্ত বলবিন্দরের (Balwinder Singh) গ্রেফতার হওয়ার মুহূর্ত, ধ্বস্তাধ্বস্তিতে পাগড়ী খুলে যায় ওই শিখ দেহরক্ষীর। বাংলা পুলিশের এহেন কর্মকান্ডে বেজায় ক্ষুব্ধ হন শিখ সম্প্রদায়ের অনেকেই। যথারীতি থেমে না থেকে আওয়াজ তোলে পদ্ম শিবির। তবে চুপ করে বসে নেই বঙ্গ পুলিশও (West Bengal police)। সপাট জবাব দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তাঁরা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে তিনজন পুলিশ মিলে বলবিন্দরকে ধরার চেষ্টা করছে। সেই করতে গিয়েই পাগড়ি খুলে যায় ওই দেহরক্ষীর। ভারতীয় অস্ত্র আইনের আওতায় বলবিন্দরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে কারণ তার পিস্তলের লাইসেন্স জম্মুর রাজৌরির, বাংলায় সেটা গ্রাহ্য নয়। শুক্রবারে হাওড়া আদালতে তোলা হয় বলবিন্দরকে। আপাতত তাকে হাজতেই থাকতে হবে বলে জানায় আদালত।
https://twitter.com/WBPolice/status/1314599460882636802?s=20
শুক্রবার রাতে রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে ঘটনার ফুটেজ টুইট করে দাবি করা হয় যে ধ্বস্তাধ্বস্তিতে নিজের থেকে পাগড়ি খুলে গিয়েছিল। কোনও পুলিশ অফিসার সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে টান মেরে খোলেনি। কোনও ধর্মের ভাবাবাগকে আহত করা পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের উদ্দেশ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
আরেকটি টুইটে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে তারা সব ধর্মকে সম্মান করেন। অ্যারেস্ট করার আগে বলবিন্দরকে পাগড়ি পরে নিতে বলা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রমাণস্বরূপ পুলিশ ভ্যানের পাশে পাগড়ি পরিহিত বলবিন্দরের ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে যে থানায় নিয়ে যাওয়ার আগের ছবি এটি। একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পষ্ট করেছে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।
https://twitter.com/WBPolice/status/1314599473897562112?s=20
তবে বিজেপির অন্দরে এই নিয়ে ক্ষোভ অব্যাহত। বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন বলবিন্দর বিজেপি যুব মোর্চার এক নেতার দেহরক্ষী। বেসরকারি নিরাপত্তরক্ষী বলবিন্দরের পিস্তলটির বৈধ লাইসেন্স আছে বলে তিনি জানান। পাগড়ি ইস্যুতে বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে বলে দাবি করেছেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ কুণাল ঘোষ। তৃণমূল মুখপাত্রের দাবি কেউ জোর করে পাগড়ি খুলে দেয়নি ধাক্কাধাক্কির ফলে এই কাণ্ড। বিজেপির অভিযোগ বলবিন্দর সিংকে যেভাবে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ ও তার পাগড়ি ধরে টান দেওয়া হয়েছে, তাতে শিখ ধর্মালম্বীদের অপমান করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত বন্দুক সহ হাওড়ায় বিক্ষোভরত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে থেকে বলবিন্দরকে উদ্ধার করে পুলিশ। বিজেপির দিল্লি শাখার সচিব ইমপ্রিত সিং বক্সীর (Impreet Singh Bakshi) টুইট করা ভিডিও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের উদ্দেশ্যে টুইট করেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং।






