Durgapur rape*case : দুর্গাপুরকাণ্ডে বাড়ছে টানাপোড়েন! হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিজেপি ও মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ, আজই শুনানি!

দুর্গাপুরের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য। মেডিক্যাল পড়ুয়া তরুণীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ক্ষোভ বাড়ছে ক্রমশ। কলেজ চত্বরের বাইরে দিনরাত চলতে থাকা বিক্ষোভে সাধারণ পড়ুয়াদের পড়াশোনাতেও বাধা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ। একদিকে ন্যায়ের দাবিতে প্রতিবাদ, অন্যদিকে প্রশাসনিক অস্থিরতা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এবার আদালতের দ্বারস্থ হল দুই পক্ষ।

কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন জানিয়ে কলেজের তরফে দাবি করা হয়েছে, চলতি সময়ে কলেজে পরীক্ষা চলছে। অথচ, ঘটনার পর থেকে প্রতিদিনই বাইরে ভিড় জমছে বহু মানুষের। এই অবস্থায় স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই জমায়েত সরিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি শম্পা দত্ত পালের বেঞ্চেই এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্গাপুরে নির্যাতনের প্রতিবাদে চলতে থাকা ধর্নায় অনুমতি বজায় রাখার দাবিতে হাই কোর্টে গিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে যাতে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ধর্না চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন, দুপুর দুটোয় শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা।

পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার তিনজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া নির্যাতিতার এক সহপাঠীকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, এবং সূত্রের খবর—তদন্তকারীরা একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন।

নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার বাসিন্দা। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। সোমবার তাঁর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝী। তিনি নির্যাতিতার পরিবারকে দ্রুত সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বলেছেন, “দুর্গাপুরকাণ্ডে দোষীরা যাতে কোনওভাবেই পার না পায়, সে জন্য সব স্তরে চাপ তৈরি করা হবে।”

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : শুভেন্দু অধিকারীর অঙ্কে বাংলার রাজনীতি উত্তপ্ত! ৪৬% ভোটেই কি এবার বিজেপি ক্ষমতায়?

এই ঘটনার ফলে একদিকে যেখানে ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে, অন্যদিকে কলেজের পরীক্ষা ও ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এখন নজর আজকের হাই কোর্টের রায়ের দিকে—যেখানেই নির্ধারিত হবে, বিক্ষোভ-ধর্না ও শিক্ষা-পরিবেশের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles