রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আর কয়েক মাস পরেই। তার আগেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপি কীভাবে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারে। শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, নিজের বক্তব্যকে সমর্থন দিতে তিনি তুলে ধরলেন নির্দিষ্ট সংখ্যা আর অঙ্কের হিসেব। ফলে তাঁর এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
কাঁথির বিজয়া সম্মিলনীর সভায় শুভেন্দু বলেন, “রাজ্যে আমরা যদি ৪৬ শতাংশ ভোট পাই, তাহলে ক্ষমতায় আসব।” তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু ভোটের ৯৫ শতাংশ তৃণমূল পায়, ফলে বিজেপির সঙ্গে তাদের ভোটের ব্যবধান প্রায় ৪২ লক্ষ। সেই ব্যবধান ঘোচাতে দরকার আরও ২২ লক্ষ ভোট। এই অঙ্ক কষেই তিনি বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপি জয়ের খুব কাছেই।
সভামঞ্চে শুভেন্দু আরও বলেন, রাজ্যে খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা (Special Intensive Revision – SIR)। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১ কোটি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন। সেই পরিস্থিতিতে বিজেপির পক্ষে সুবিধা তৈরি হবে বলে তাঁর ইঙ্গিত। পাশাপাশি, বুথ লেভেল অফিসারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ওদেরও না, আমাদেরও না—কমিশনের কথা শুনে কাজ করুন।” অর্থাৎ, নির্বাচনী প্রস্তুতিতে সততা বজায় রাখার বার্তাও দেন তিনি।
সভায় শুভেন্দু জানান, খুব শিগগিরই তিনি বুথ লেভেল এজেন্টদের নিয়ে কর্মসূচি শুরু করবেন। প্রত্যেক বুথকে শক্তিশালী করার ডাক দেন—‘মেরা বুথ সবচেয়ে মজবুত’। তিনি বলেন, “পাড়ায় পাড়ায় অসুর তৈরি হয়েছে। বোনেদের হাতে ত্রিশূল দরকার।” তাঁর বার্তায় নারী নিরাপত্তা এবং হিন্দু ঐক্যের বিষয়টি স্পষ্ট।
শুভেন্দু এদিন ইঙ্গিত দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মহিলাদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হবে। অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত ও কম দামে রান্নার গ্যাসের মতো সুযোগ বাংলাতেও মিলবে। পাশাপাশি, পুরনো কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে দলের নেতাদের নির্দেশ দেন তিনি।
West Bengal : শিশুমৃ*ত্যুর প্রতিবাদে হাসপাতাল চত্বরে বিশৃঙ্খলা, বিক্ষোভ সামলাতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ!
কাঁথির বিজয়া সম্মিলনীর এই সভায় শুভেন্দুর পাশে ছিলেন তাঁর বাবা, বর্ষীয়ান নেতা শিশির অধিকারী। বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিলেন, বিজেপি এখন শুধু রাজনীতির লড়াই নয়, সংখ্যার অঙ্কেও লড়াইয়ের ময়দানে প্রস্তুত। তাঁর হিসেব বলছে—ভোটের অঙ্ক যদি মেলে, বাংলার গদিতেও ফিরতে পারে বিজেপি।





