একটি ফোনকল, কিছু সরকারি নথির কথা, আর তার পরেই অদৃশ্য হয়ে যাওয়া এক সাধারণ মানুষের জীবন। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পরিচিত মানুষের ডাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর আর ফেরেননি নাসির। কয়েক দিনের মধ্যেই সামনে আসে এমন এক নির্মম সত্য, যা শিউরে উঠতে বাধ্য করছে সকলকে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নাসিরের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজন রয়েছে—আধার কার্ড ও ভোটার কার্ডের জেরক্স নিয়ে তৎক্ষণাৎ দেখা করতে হবে। যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি নিজেকে ‘এইআরও’ বলে পরিচয় দেন। তাড়াহুড়ো করেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন নাসির। কিন্তু তারপর থেকে আর তাঁর খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাধ্য হয়ে বাদুড়িয়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তাঁরা।
পরদিন সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর চাতরা এলাকার একটি খাল থেকে উদ্ধার হয় নাসিরের মোটরবাইক ও জুতো। তবু মানুষের কোনও সন্ধান মেলেনি। তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহের তীর ঘোরায় পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ানের দিকে। তাঁর সঙ্গে সাগর গাইন নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বসিরহাট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে আদালত পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর বাদুড়িয়ার বিভিন্ন ব্রিজের নীচে ও খালে তল্লাশি চালানো হয়। সেই তল্লাশিতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খাল থেকে তিনটি আলাদা প্যাকেটে উদ্ধার হয় নাসিরের দেহাংশ। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় আরও ধাক্কা খেয়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুনঃ TMC-BJP : যোগদান মঞ্চেই অস্বস্তি! লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দলবদলু নেতার অভিযোগে চাপে তৃণমূল, কী বললেন কুণাল–চন্দ্রিমা?
নাসিরের স্ত্রী বিউটি খাতুন বিবি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। অভিযুক্ত রিজওয়ানকে তিনি তাঁদের পরিবারের ঘনিষ্ঠ বলেই চিনতেন। সেই পরিচিত মানুষই এমন নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত—এই সত্য মেনে নিতে পারছেন না তিনি। পরিবারের দাবি, দোষীদের কঠোর শাস্তি হোক। কেন এই খুন, তার উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা ও আতঙ্কিত বাদুড়িয়া।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার