BLO Agitation: দাবি জানাতেই শোকজের হুমকি! সিইও দফতরে রাতভর ধুন্ধুমার—অবমাননার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে ক্ষোভে ফুঁসছে বিএলওরা!

কলকাতা জুড়ে ভোটের প্রস্তুতি যখন জোরকদমে চলছে, ঠিক সেই সময়েই জটিল পরিস্থিতি তৈরি করল বিএলও-দের ক্ষোভ। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অতিরিক্ত দায়িত্ব আর বাড়তে থাকা চাপ—এই সবকিছুর মাঝেই একাংশ বিএলও জানিয়েছেন, তাঁদের ধৈর্যের সীমা এবার শেষ। সোমবার রাত থেকেই তাঁরা প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বাইরে বসে পড়েছেন ধরনায়। সাধারণ মানুষের নজরও এখন তাদের দিকে, কারণ ঠিক নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি প্রশাসনের জন্যও অস্বস্তিকর।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুধু উপেক্ষাই নয়, উলটে শোকজের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে তাঁদের কয়েকজনকে। এক আন্দোলনকারী জানান, তারা সিইও মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁর ডেপুটি দিব্যেন্দুবাবু নাকি বিএলওদের সম্পর্কে তথ্য নেন। অভিযোগ, তার পাঁচ মিনিট পরেই দুই বিএলও—তনুশ্রী মোদক ও সাহিফুল্লা হালদারের ফোনে শোকজের সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এই ঘটনাকেই এখন তারা প্রশাসনিক চাপের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য আরও বিস্তৃত। তারা জানাচ্ছেন, এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপে শুধু মানসিকই নয়, শারীরিক ক্ষতির মুখেও পড়ছেন অনেক বিএলও। তাঁদের দাবি, ইতিমধ্যেই এই বাড়তি চাপের জন্য নাকি একাধিক সহকর্মী মারা গিয়েছেন। সেই কারণেই ১৩ দফা দাবি তুলে তাঁরা চাইছেন মুখোমুখি আলোচনা—আর সেই আলোচনায় সিইও নিজে উপস্থিত থাকবেন বলেই জোর দাবিও জানাচ্ছেন। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, দেখা না করা পর্যন্ত ধরনা চলবে।

এদিকে সোমবার দুপুরেই সিইও দফতরের সামনে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন দফতরের গেটে তালা লাগানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ বাধা দিতে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি আরও অশান্ত হয়। আন্দোলনকারীরা সিইওকে ঘেরাও করলে সেখানে হাজির হন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। তাঁর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

আরও পড়ুনঃ Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের তরুণীকে সাংহাই বিমানবন্দরে ১৮ ঘণ্টা আটক ও অসম্মান, মোদীকে চিঠি লিখে ক্ষতিপূরণ চাইলেন প্রেমা ওয়াংজম থংডক!

মঙ্গলবার ভোরের দিকে যদিও অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক, তবুও আন্দোলনকারীরা অবস্থান ছেড়ে উঠতে নারাজ। সিইও দফতরের গেটের বাইরে বসেই তাঁরা অপেক্ষা করছেন আলোচনার। তাঁদের আবেদন, রাজ্যে যাঁরা বিএলও হিসেবে কাজ করেন, সবাই যাতে এই আন্দোলনে পাশে দাঁড়ান। সাধারণ নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই এই আন্দোলনের প্রভাব পড়তে পারে প্রশাসনিক তৎপরতার উপর—এই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles