West Bengal politics : এসআইআর-এ গাফিলতি বরদাস্ত নয়! কাঞ্চন-মনোরঞ্জন-এর নাম নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ, ‘মানুষ ছেড়ে দেবে না’ সতর্কবার্তা অভিষেকের!

রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এবার আরও সরগরম। ভোটের আগে যখন প্রতিটি দল নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে চাপ। সংগঠনের কাজ ঠিকঠাক হচ্ছে কি না—এসব নিয়ে তৃণমূল শিবির এখন বিশেষ সতর্ক। তার মধ্যেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠক ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনার ক্ষেত্র। শোনা যাচ্ছে, বৈঠকে শুধু কাজের রিপোর্টই তোলা হয়নি, বরং অনেকে পেয়েছেন ‘ভাল নম্বর’, আবার কেউ কেউ পড়েছেন অভিষেকের অপছন্দের তালিকায়।

জানা গিয়েছে, প্রায় ২৪,০০০ সদস্যকে নিয়ে ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক সরাসরি পর্যালোচনা করেন এসআইআর (SIR)-এর কাজ। নির্বাচনী প্রস্তুতির অন্যতম বড় এই প্রক্রিয়ায় কোন নেতা কতটা সক্রিয়, কারা মাঠে নেমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, আর কারা দায়িত্ব পালনে ঢিলেঢালা—এসবই যাচাই করেন তিনি। বিশেষ করে ‘দিদির দূত’ অ্যাপে তথ্য আপলোড না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। অভিযোগ, বহু নেতা কার্যত নির্দেশ মানছেন না।

সূত্র বলছে, হরিপাল ও ধনেখালির বিধায়ক—অসীমা পাত্র ও বেচারাম মান্না—অভিষেকের বিচারে ‘ভাল নম্বর’ পেয়েছেন। কিন্তু সন্তুষ্ট নন অন্তত আটটি বিধানসভার কাজে। তার মধ্যে ছ’টিই কলকাতার—বালিগঞ্জ, বেলেঘাটা, এন্টালি, কলকাতা পোর্ট, কাশীপুর এবং চৌরঙ্গী। অর্থাৎ বাবুল সুপ্রিয়, ফিরহাদ হাকিম, অতীন ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও রথীন ঘোষদের ক্ষেত্রেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তথ্য আপলোড করছে, কিন্তু তৃণমূলের বহু দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নাকি মাঠে নেমেছেন কম—এই অভিযোগই উঠে এসেছে বৈঠকে।

কাজের গাফিলতিই নয়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও চিন্তায় ফেলেছে অভিষেককে। তিনি আলাদাভাবে ভরতপুরের হুমায়ুন কবীর এবং শিবপুরের মনোজ তিওয়ারির নাম উল্লেখ করেন। বার্তা দেন—“মানুষ ভুলবে না, ভোট পেতে লড়াই করতে হয়।” সংগঠনের এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ঘিরে দলের নানা স্তরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে যখন তৃণমূল নেতারা বারবার মানুষের পাশে থাকার কথা বলছেন, তখন বাস্তবে সেটা কতটা মানা হচ্ছে—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক।

আরও পড়ুনঃ BLO Agitation: দাবি জানাতেই শোকজের হুমকি! সিইও দফতরে রাতভর ধুন্ধুমার—অবমাননার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে ক্ষোভে ফুঁসছে বিএলওরা!

শেষে সামনে আসে সেই দু’টি নাম যা নিয়ে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে—মনোরঞ্জন ব্যাপারি ও কাঞ্চন মল্লিক। অভিযোগ, এসআইআর ক্যাম্পে তাঁদের উপস্থিতি নিয়মিত নয়। এতে ক্ষুব্ধ অভিষেক স্পষ্ট বলেছেন—ভোটের আগে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কাঞ্চন অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি ক্যাম্পে যাচ্ছেন এবং ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দিচ্ছেন। মনোরঞ্জনও জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী আরও সক্রিয় হবেন। তবে ভোটের মুখে অভিষেকের এই কঠোর অবস্থান যে তৃণমূলের অন্দরে চাপ বাড়িয়েছে, তা আর লুকোছাপা নেই।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles