Bongaon AC Local: “এত টাকা দিয়েও যদি আরাম না পাই…” — নতুন বনগাঁ AC লোকাল পথে নামতেই ভিড়ে দমবন্ধ অবস্থা, বিপাকে নিত্যযাত্রী!

লোকাল ট্রেন মানেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রধান ভরসা। বিশেষ করে বনগাঁ শাখা। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই রুটেই ওঠেন অফিস বা স্কুল-কলেজের উদ্দেশে। সেই কারণে ভিড়ের জন্য বনগাঁ লোকালের নাম উচ্চারণ করলেই যাত্রীদের মনে আতঙ্ক কাজ করে। এর মাঝেই সম্প্রতি চালু হয়েছে বনগাঁ-শিয়ালদহ এসি লোকাল। প্রথম দিন থেকেই যাত্রীদের আশা ছিল, এবার অন্তত একটু আরামের যাত্রা মিলবে। কিন্তু সেই স্বস্তি কদিন যেতে না যেতেই হতাশায় পরিণত হয়েছে।

হাবড়ার বাসিন্দা সৌভিক মজুমদার যেমন প্রতিদিন অফিসের জন্য বিধাননগরে যাতায়াত করেন। নতুন এসি লোকাল শুরু হতেই তিনি ভেবেছিলেন এবার যাত্রা হবে অনেক সহজ। কিন্তু প্রথম দিনেই ট্রেনে উঠে যেন ভ্রান্তি কাটল। ঠাসাঠাসি ভিড়ে দমবন্ধ পরিস্থিতি, দাঁড়াবারও জায়গা নেই। সৌভিক বলেন, “এসি ঠিকঠাক কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু ভিড় এমন যে নিঃশ্বাস নিতেই অসুবিধা হচ্ছে। এর থেকে তো সাধারণ লোকালেই ভাল যাওয়া।”

সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে বনগাঁ থেকে ছাড়ে এই এসি লোকাল। মাঝপথে থামে গোবরডাঙা, ঠাকুরনগর, হাবড়া, দত্তপুকুর, মধ্যমগ্রাম, ক্যান্টনমেন্ট সহ একাধিক স্টেশনে। ফলে যাত্রীরা ওঠার আগেই কামরাগুলো উপচে পড়ে। বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ভাড়া প্রায় ১২৪ টাকা আর হাবড়া থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত ভাড়া ৯০ টাকা। শুরুর দিকে অনেকে অভিযোগ করেছিলেন ভাড়া বেশি। কিন্তু কিছুদিন যাতায়াতের পর দেখা যাচ্ছে, ভিড়ের জন্য যাত্রীরা ভাড়ার প্রসঙ্গ আর তোলেন না।

সৌভিকের মতো অনেক যাত্রীরই অভিজ্ঞতা একই রকম। কেউ বলছেন, “এত টাকা দিয়ে উঠেও যদি আরাম না পাই, তবে জেনারেল ট্রেনই ভাল।” আবার আরেক যাত্রী মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে বনগাঁ থেকে শিয়ালদহ যাওয়ার পথে শাটল পরিষেবা না থাকা। ফলে যাত্রীদের ভিড় একেবারে এসি লোকালেই জমা হচ্ছে। বিশেষ করে সকালবেলায় ডাউন ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। তবে বিকেলে ‘আপ’ ট্রেনে ভিড় তুলনামূলক কম।

আরও পড়ুনঃ ED : ২২ জায়গায় তল্লাশি! ঝাড়গ্রাম থেকে কলকাতা—বালি পাচার মামলায় ইডি-র অভিযানে নাম ছড়ালো একাধিক ব্যবসায়ীর!

আশার আলো হয়ে শুরু হয়েছিল বনগাঁ এসি লোকাল, কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই যাত্রীরা হতাশায় ভুগছেন। আরামের জায়গায় এসেছে দমবন্ধ পরিবেশ। যাত্রীরা এখন চাইছেন, এরকম পরিস্থিতি এড়াতে হয় আরও ট্রেন বাড়ানো হোক, নয়তো যাত্রীসংখ্যা সামলানোর অন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। না হলে এসি লোকাল আর জেনারেল লোকালের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকছে না বলেই দাবি যাত্রীদের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles