বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে প্রতিদিন নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। একদিকে আমেরিকার কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতি ভারতের বাড়তি বাণিজ্যিক সম্পর্ক, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে। এরই মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সম্প্রতি এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি প্রকাশ্যে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, রাশিয়াকে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া দেশগুলির উপর যদি আমেরিকা বাড়তি শুল্ক চাপায়, তবে সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা মানেই তাদের শক্তি জোগানো। তাই ভারতের উপর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপে সমর্থন জানাতে দ্বিধা করেননি তিনি।
জেলেনস্কির এই বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ কয়েকদিন আগেই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছিলেন। সেই সময় তিনি কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে যখন মোদী, পুতিন ও শি জিনপিং এক মঞ্চে এলেন, তখন থেকেই সমালোচনার সুর চড়িয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানো দেশগুলিকে ছাড় দেওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে তেল ব্যবসা বাড়ার ফলে মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নতুন শক্তি পাচ্ছে। যদিও এই একই অভিযোগ চিনের বিরুদ্ধে তুলতে তারা তুলনামূলকভাবে নরম সুরে কথা বলছে। এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির প্রকাশ্য সমর্থন ভারত–আমেরিকা সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আরও পড়ুনঃ Bongaon AC Local: “এত টাকা দিয়েও যদি আরাম না পাই…” — নতুন বনগাঁ AC লোকাল পথে নামতেই ভিড়ে দমবন্ধ অবস্থা, বিপাকে নিত্যযাত্রী!
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতদিন জেলেনস্কি ভারতের প্রতি সরাসরি সমালোচনামূলক অবস্থান নেননি। কিন্তু এবারের বক্তব্য স্পষ্টভাবে আমেরিকার পাশে দাঁড় করাল তাঁকে। এখন দেখার বিষয়, ভারত এই চাপ সামলে কীভাবে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছাড়াও ভারতের প্রয়োজন আমেরিকার বাজার ও সহযোগিতা। ফলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কোন ভারসাম্য নীতি গ্রহণ করে, সেটাই এখন সবার নজরে।






