ভোরের কলকাতা সাধারণত শান্ত থাকে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সেই শান্ত ভোরেই হঠাৎ করে নড়েচড়ে বসে শহরের একাধিক এলাকা। আলিপুর নিউ রোড, নিউ টাউন—এই নামগুলো তখন শুধু ঠিকানা নয়, বরং কৌতূহল আর প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু। ঠিক কী ঘটছে, কেনই বা এত ভোরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের আনাগোনা—তা বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয়ে যায় জল্পনা।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ছটা নাগাদ অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে একযোগে অভিযান শুরু করে সিবিআই। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট পাঁচটি ঠিকানায় পৌঁছয় পাঁচটি পৃথক তদন্তকারী দল। প্রথমে নির্দিষ্ট বাড়ি ও অফিস চত্বর ঘিরে ফেলা হয়, তারপর শুরু হয় তল্লাশি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হতে থাকে, এই অভিযান নিছক নিয়মরক্ষার নয়।
তদন্তকারী সংস্থার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনে অনিয়মের অভিযোগই এই তল্লাশির মূল কারণ। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সন্দেহজনক আর্থিক নথি এবং লেনদেনের পথ খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
তল্লাশি চলাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। বাড়ির ভিতরে নথি খতিয়ে দেখা, কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডেটা পরীক্ষা—সবই হয়েছে ধাপে ধাপে। তদন্তকারীরা চাইছেন, আর্থিক প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্কটি বুঝে নিতে, যাতে কোনও তথ্যই ফসকে না যায়।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের সাজানো সংসার ভাঙছে বীরেন্দ্র সেহবাগের?
সব মিলিয়ে, এই অভিযান ঘিরে এখন নজর পুরোপুরি তদন্তের দিকেই। ব্যাঙ্ক প্রতারণা সংক্রান্ত এই মামলায় নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আগামী দিনে সিবিআই কী তথ্য প্রকাশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে শহর।






