বিসিসিআই কর্তার সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা ভারতীয় ক্রিকেট মহলে এখন বিষাদের সুর। হার্দিক পান্ডিয়া বা শিখর ধাওয়ানের পর এবার কি বিচ্ছেদের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছেন নজফগড়-এর নবাব বীরেন্দ্র সেহবাগ? মাঠের বিধ্বংসী এই ওপেনার বাস্তব জীবনে গত ২০ বছর ধরে আরতি আহলাওয়াতের সঙ্গে সুখের সংসার করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে এই তারকা দম্পতি এখন আর এক ছাদের তলায় থাকছেন না।
দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের ফাটল প্রথম নজরে আসে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। সম্প্রতি দীপাবলি বা পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানেই সেহবাগের সঙ্গে আরতিকে দেখা যায়নি। বীরু তার মা এবং দুই ছেলে আর্যবীর ও বেদান্তের সঙ্গে ছবি পোস্ট করলেও সেখানে আরতি ছিলেন অনুপস্থিত। এমনকি নেটিজেনরা লক্ষ্য করেছেন যে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে তারা একে অপরকে আনফলো করে দিয়েছেন। আধুনিক যুগে যা বিবাহ বিচ্ছেদের প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবেই ধরা হয়।
এই ভাঙনের নেপথ্যে উঠে আসছে এক তৃতীয় ব্যক্তির নাম যা ক্রিকেট প্রেমীদের অবাক করে দিয়েছে। বিসিসিআই-এর পদাধিকারী তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার মিঠুন মনহাসের সঙ্গে আরতির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। মিঠুন এবং সেহবাগ একসময় দিল্লির হয়ে দীর্ঘকাল একসাথে ক্রিকেট খেলেছেন এবং তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় আরতি ও মিঠুনের বেশ কিছু সাম্প্রতিক ছবি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে।
বিষয়টিকে আরও উসকে দিয়েছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক অভিষেক ত্রিপাঠীর একটি রহস্যময় মন্তব্য। তিনি অতীতে দীনেশ কার্তিকের স্ত্রী এবং মুরলী বিজয়ের সেই বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছেন। নেটিজেনদের একাংশের ধারণা সেহবাগের ব্যক্তিগত জীবনেও ঠিক একই রকম কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বন্ধুর হাতেই কি তবে বন্ধুত্বের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হলো এমন প্রশ্নেই এখন উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের ক্রিকেট অনুরাগীদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলো।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR : শুনানির মাঝেই ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা! বিডিও অফিসে হামলার অভিযোগ, বিধায়কের ভূমিকা ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক!
যদিও এই বিষয়ে বীরেন্দ্র সেহবাগ বা আরতি এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। ২০ বছরের ভালোবাসা আর দুটি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভক্তরা প্রার্থনা করছেন যেন এই খবর নিছকই গুজব প্রমাণিত হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দূরত্বের ছবিটা অন্য কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম আইকনিক এই জুটির বিচ্ছেদ যদি সত্যিই ঘটে তবে তা নিঃসন্দেহে ভক্তদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি সংবাদ হবে।





