I-PAC raid : আইপ্যাক তল্লাশি ঘিরে বড় সংঘাত! রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ইডি-র কড়া অভিযোগ, এবার কি সুপ্রিম কোর্টে কঠিন প্রশ্নের মুখে প্রশাসন?

রাজ্যের রাজনীতি ও প্রশাসনের সম্পর্ক এমনিতেই বহুদিন ধরে টানাপোড়েনের মধ্যে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের সংঘাত নতুন নয়, কিন্তু এবার সেই টান আরও এক ধাপ চড়েছে। আইপ্যাক (IPAC) অফিসে ইডি-র তল্লাশিকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই—এর প্রভাব পড়ছে রাজ্য পুলিশের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও। সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের নামে আদৌ কী হচ্ছে, আর প্রশাসনের ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ।

এই উত্তপ্ত আবহেই সুপ্রিম কোর্টের শুনানির আগে বড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা নতুন আর্জিতে রাজ্য পুলিশের একঝাঁক শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। ইডি-র অভিযোগ, আইপ্যাক অফিসে তল্লাশি চলাকালীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং ডিসি সাউথকে সাসপেন্ড করার আর্জি জানানো হয়েছে। ইডির দাবি, আইন মেনে কাজ করতে গিয়ে তারা পরিকল্পিত নৈরাজ্যের মুখে পড়ে।

ইডি তাদের আর্জিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেছে, রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তদন্তপ্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি আধিকারিক ও সহযোগীদের মাধ্যমে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে বলেও দাবি। তল্লাশির সময় পরিবেশ ইচ্ছাকৃত ভাবে উত্তপ্ত করা হয়েছিল, যাতে তদন্ত এগোতে না পারে—এমন কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নথিতে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও কর্মিবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে ইডি।

আইপ্যাক তল্লাশিকাণ্ডে এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চে আজ এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা। উল্লেখযোগ্য ভাবে, আগের দিন কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের করা মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সংরক্ষণের দাবিতে করা সেই মামলায় আদালত জানিয়ে দেয়, ইডি নিজেরাই বলেছে যে ৮ জানুয়ারির তল্লাশিতে তারা কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি। ফলে সেই মামলা আর এগোনোর প্রয়োজন নেই।

Breaking : ভোটের মুখে কলকাতায় ফের সিবিআই হানা! ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় মহানগরীর ব্যবসায়ীর বাড়িতে সিবিআই অভিযান!

তবে এখানেই শেষ নয়, একদিকে ইডি বলছে, কোনও নথি তারা নেয়নি। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে উঠছে ‘নথি চুরি’ বনাম ‘নথি ডাকাতি’-র তীব্র রাজনৈতিক অভিযোগ। হাইকোর্টে ও সুপ্রিম কোর্টে সমান্তরাল মামলার যুক্তি ঘিরে আইনজীবীদের তর্কও কম হয়নি। এখন দেখার, শীর্ষ আদালত এই সংঘাতকে কোন দিকে নিয়ে যায়—রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে, নাকি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ খতিয়ে দেখে নতুন কোনও নির্দেশের দিকে। এই মামলার রায় শুধু আইপ্যাক নয়, ভবিষ্যতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles