উত্তরবঙ্গে বর্ষা ঢুকলেও দক্ষিণবঙ্গ এখনও ধুঁকছে তীব্র তাপপ্রবাহের জেরে। একফোঁটা বৃষ্টির জন্য দিন গুনছে মানুষ। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এখনও দু-তিনদিন এমনই পরিস্থিতি বজায় থাকবে। আর এই তীব্র দাবদাহের দোসর হয়েছে লোডশেডিং। কলকাতার নানান প্রান্তেই দিনরাত দীর্ঘ সময় ধরে থাকছে না কারেন্ট। এর জেরে ক্ষোভে ফুঁসছে শহরবাসী।
কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্রই একই ছবি। অনেকে তো আবার ঘড়ি মেলাতে শুরু করেছে যে এই সময় লোডশেডিং হবে। এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে শহরবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়েছে সিইএসসি। ফেসবুকের পেজে অজস্র অভিযোগ। শুধুমাত্র কলকাতাই নয়, রাজ্যের নানান প্রান্তেই এমন দৃশ্য।
কিছুদিন আগে লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেছিলেন, রাজ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি নেই। লোড বাড়ার দরুণ ট্রান্সফর্মারে বিভ্রাট ঘটছে। সে জন্যই বিদুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দায় সাধারণ মানুষের ঘাড়েই ঠেলে দিয়েছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। এবার আজ, শনিবার শহরের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে অনেকটা সেই সুরই শোনা গেল সিইএসসসি-র থেকেও।
ফেসবুকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে একটি পোস্ট করে সিইএসসি জানায়, “আমাদের শহরে অপ্রত্যাশিত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিগত বহু বছর ধরে আমরা সফলভাবে শহরে বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে আসছি। এমনকী গত ১৬ জুন ২৬০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা আমরা পূরণ করেছি”।
কিন্তু তাতেও বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা মিটছে না। সিইএসসি-র কথায়, “এমন পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের গ্রাহকদের কাছে অনুরোধ করছি যাতে তাঁরা, তাঁদের এসি ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার করেন”।
এই বছর যে হারে তীব্র গরম পড়েছে, তাতে ঘরে ঘরে এসি, কুলারের ব্যবহার বেড়েছে। এর জেরে বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। নাগরিকরাও জানিয়েছেন, এবারে বিদ্যুতের চাহিদা অনেকটাই বেশি। কিন্তু তাদের এও অভিযোগ, এমনটা যে হবে তা তো বিদ্যুৎ দফতর আগে থেকেই জানত। আবহাওয়া দফতরের তরফে আগেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল গরম নিয়ে। তারপরও কেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হল না, তা নিয়ে তোলা হয়েছে প্রশ্ন।





