স্কুল শুরুর আগে হয় প্রার্থনা। এই প্রথাই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীত বা মন্ত্রপাঠ হয়ে থাকে সাধারণত। কিন্তু এই প্রার্থনায় আচমকাই বেজে উঠল আজান। আর তা শুনে পথচলতি কেউ কেউ আবার ভিডিও করে ছড়িয়ে দিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। স্কুলে কেন আজান, এই নিয়ে উঠল প্রশ্ন।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে স্কুলের গেটের সামনে জড়ো হয়ে গেলেন অভিভাবকরা। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। প্রধান শিক্ষিকা তাদের উদ্দেশে হাতজোড় করে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে কেন আজান বাজানো হয়েছে। কিন্তু তা শুনতে নারাজ প্রতিবাদী অভিভাবকরা। তাদের দাবী, যে শিক্ষক আজানের টেপ বাজিয়েছেন তাঁকে এখনই স্কুল থেকে বের করে দিতে হবে।
এমন বিশৃঙ্খলার খবর পেয়ে স্কুলের সামনে আসে পুলিশ। তারাও বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে স্কুলের নির্দেশেই শিক্ষক আজানের টেপ বাজিয়েছেন। তাঁকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে না। কিন্তু অভিভাবকরা কিছুই শুনতে চান না। তাদের একটাই দাবী, ওই শিক্ষককে সরাতেই হবে
প্রধান শিক্ষিকা এরপর জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রতিদিন পালা করে নানান ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ শ্লোক ইত্যাদি প্রার্থনার সময় পাঠ করা হবে। এটা সব ধর্ম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা। তাছাড়া স্কুলে মুসলিম পড়ুয়াও আছেন। কিন্তু ক্ষান্ত হন নি অভিভাবকরা। এর জেরে চাপের মুখে পড়ে আজান বাজানো শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল, শুক্রবার মুম্বইয়ের কান্দিভ্যালি এলাকার এক স্কুলে। এই স্কুলে এদিন তিরিশ সেকেন্ডের জন্য বাজানো হয় আজান। তা থেকেই বিক্ষোভ। আর সেই বিক্ষোভকারীদের মধ্যেই মিশে যায় হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি, মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা ও শিবসেনা।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির স্থানীয় বিধায়ক যোগেশ সাগর বলেন, “আজান বাজানোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষ মানসিক আঘাত পেয়েছেন। স্কুল কাজটা ঠিক করেনি”।
এই ঘটনায় আপাতত কোনও এফআইআর দায়ের করে নি পুলিশ। অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন বটে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আগে তারা প্রাথমিক অনুসন্ধান করে দেখবেন যে স্কুলে আজান বাজানো আদৌ বেআইনি কী না, স্কুল-শিক্ষক কোনও বিধিভঙ্গ করেছে কী না। তারপর দায়ের হবে এফআইআর।





