চাকদা শহর জুড়ে এখন একটাই নাম ঘুরছে — স্থানীয় তৃণমূল নেতা নারায়ণ মণ্ডল। কিছুদিন ধরেই একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ওই নেতাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গিয়েছে বলে দাবি। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই শহরবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয় চাঞ্চল্য। কে এই ব্যক্তি, কীভাবে এমন ভিডিও বাইরে এল— এই নিয়েই শুরু হয় আলোচনা।
সূত্রের খবর, চাকদা শহরের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দেবকৃষ্ণ মজুমদার বিষয়টি জানার পর নিজে থেকেই অভিযুক্ত নারায়ণ মণ্ডলকে ফোন করেন। কথোপকথনের সময় ভিডিওটির বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে নারায়ণ মণ্ডল স্বীকার করেন যে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে তিনিই রয়েছেন। এরপরেই দলের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় ও জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁকে দলের সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।
চাকদার বাসিন্দা ও চিকিৎসক দিবাকর চৌধুরীর দাবি, নারায়ণ মণ্ডলের সঙ্গে এলাকার একাধিক জমি মাফিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শুধু তাই নয়, ভূমি দফতরের একাধিক আধিকারিকের সঙ্গেও তাঁর ওঠাবসা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মহিলাদের ব্যবহার করে ভূমি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করাতেন তিনি, এবং পরে সেই ঘটনার ভিডিওকে হাতিয়ার করে ব্ল্যাকমেল করতেন।
চিকিৎসক দিবাকর চৌধুরী আরও জানান, নারায়ণ মণ্ডল ওই ভিডিওগুলির সাহায্যে বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। তাঁর এই কাজকর্ম নিয়ে অনেকেই মুখ খুলতে ভয় পেতেন, কারণ তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সবকিছু চেপে দিতেন বলে অভিযোগ। কিন্তু এবার নিজের ফাঁদেই ফেঁসে গেলেন এই তৃণমূল নেতা। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর পরিচিত মহলই মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Railway Stampede: তিন ট্রেন, তীব্র ভিড়, সিঁড়িতে হুড়োহুড়ি! মুহূর্তে চিৎকার আর বিশৃঙ্খলা — স্টেশনে পদপিষ্টে আহত একাধিক যাত্রী!
রাজনীতির আড়ালে বছরের পর বছর নানা কৌশলে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন নারায়ণ মণ্ডল। কিন্তু এক ভাইরাল ভিডিও তাঁর সমস্ত সুনাম এক মুহূর্তে মাটিতে মিশিয়ে দিল। দল তাঁকে ইতিমধ্যেই সমস্ত পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এখন চাকদার রাজনৈতিক মহল জুড়ে প্রশ্ন— এতদিন যিনি অন্যকে ফাঁসিয়ে বেড়াতেন, তিনি নিজেই কেন এমন কাজে জড়ালেন? সময়ই তার উত্তর দেবে।





