বর্ধমান স্টেশনের রবিবার সন্ধ্যা — প্রতিদিনের মতোই হাজার হাজার যাত্রী ওঠানামা করছেন, কেউ অফিস ফেরত, কেউবা বাড়ির পথে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে সেই স্বাভাবিক ব্যস্ততা বদলে গেল বিশৃঙ্খলায়। হঠাৎই শুরু হল হুড়োহুড়ি, চিৎকার, আর তার মধ্যেই কেউ পড়ে গেলেন সিঁড়িতে, কেউ তার উপর পড়লেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে গেল পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা, আহত হলেন অনেকেই। চাঞ্চল্য ছড়ায় পুরো স্টেশনে।
সূত্র অনুযায়ী, এদিন একসঙ্গে তিনটি ট্রেন এসে দাঁড়ায় বর্ধমান স্টেশনের তিনটি ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। চার নম্বর প্ল্যাটফর্মে ছিল বর্ধমান–হাওড়া লোকাল, ছয় নম্বরে রামপুরহাট লোকাল এবং সাত নম্বরে আসানসোল লোকাল। এই তিনটি ট্রেন ধরতে গিয়েই যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় প্রচণ্ড হুড়োহুড়ি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে যে ফুট ওভার ব্রিজ রয়েছে, তার সিঁড়ি অত্যন্ত সরু। সেই সিঁড়ি দিয়েই একসঙ্গে শতাধিক যাত্রী নামতে শুরু করতেই বিপত্তি বাঁধে। ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে কয়েকজন যাত্রী পড়ে যান নিচে, আর তাতেই পদপিষ্ট হয়ে আহত হন অনেকে।
ঘটনার পর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্ধার কাজ। রেল কর্মীরা ও উপস্থিত যাত্রীরা আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন পর্যন্ত দশজন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কারও গুরুতর আঘাত না থাকলেও বেশ কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রেল সূত্র জানাচ্ছে, আপাতত সকলের অবস্থাই স্থিতিশীল। ঘটনার খবর পৌঁছতেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উদ্বেগ।
অন্যদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছান বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস। আহতদের দেখতে তিনি হাসপাতালে যান এবং রেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে গাফিলতি রয়েছে। প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন, অথচ সিঁড়িগুলি সংকীর্ণ এবং নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যাও কম — এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় যাত্রীরাও।
আরও পড়ুনঃ Premananda Maharaj: দৈব আশীর্বাদে ভোরের বৃন্দাবন! স্বমহিমায় ফের পদযাত্রায় প্রেমানন্দ মহারাজ, ‘রাধে রাধে’ ধ্বনিতে মুখরিত শহর
রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ফুট ওভার ব্রিজের সিঁড়ি ও যাত্রী চলাচলের দিকগুলি নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে, সে বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এই ঘটনার পর সাধারণ যাত্রীরা আবারও প্রশ্ন তুলছেন— এত বড় গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি সত্যিই যথেষ্ট? সেই উত্তর খোঁজার অপেক্ষাতেই আপাতত বর্ধমানের যাত্রীজনতা।






