দুর্গাপুরের সাম্প্রতিক নির্যাতনকাণ্ড ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ চাঞ্চল্য বাড়ছে। কলেজছাত্রীকে নির্মমভাবে নির্যাতনের ঘটনায় এখন রাজনীতি তুঙ্গে। শুরুতে নানা তত্ত্ব উঠে এলেও, বিরোধী শিবিরের দাবি— এবার নাকি এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের প্রত্যক্ষ যোগ মিলেছে। সোমবার এই ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি যা বললেন, তা ফের উত্তপ্ত করে তুলেছে রাজনৈতিক অঙ্গন।
তিনি জানান, “এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের মধ্যে একজন তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী। তাঁর বাবা স্থানীয় পুরনিগমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন।” তাঁর বক্তব্যে নতুন করে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসনও। শুভেন্দু আরও বলেন, “এতদিন অনেক তত্ত্ব উঠেছিল, কিন্তু আজ প্রমাণ পেলাম—এই গণধর্ষণের পেছনে শাসক দলের এক পদাধিকারীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। যেখানে শাসকই শোষক, সেখানে আইনের শাসনের জায়গা থাকে না।”
ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। চিকিৎসকদের প্রতিবেদনে উল্লেখ, তরুণীর যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষত রয়েছে এবং প্রবল রক্তপাত হয়েছে। এই রিপোর্ট প্রকাশের পরেই ঘটনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করলেও, শুভেন্দুর দাবি— মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা। তাঁর কথায়, “আমি ইতিমধ্যেই তিনজনের নাম প্রকাশ করেছি। তবুও একজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। কেন এই গাফিলতি?”
বিরোধী নেতার প্রশ্ন, তদন্তে এত অগ্রগতি সত্ত্বেও মূল অপরাধীকে কেন গ্রেফতার করা যাচ্ছে না? তবে শুভেন্দু এও স্পষ্ট করে দেন যে, পুলিশ দোষীদের ফাঁসি নিশ্চিত করতে পারে, যদি সঠিকভাবে চার্জশিট দাখিল হয়। নির্যাতিতার পরিবারকে সমস্ত সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতিতার এক সহপাঠীর ভূমিকা সন্দেহজনক। সেই সহপাঠীকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ TMC : তৃণমূল নেতার ন*গ্ন ভিডিও ভাইরাল! স্বীকারোক্তির পরেই দলচ্যুত, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে!
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার রাতে সহপাঠী কিছুক্ষণের জন্য নির্যাতিতাকে ফেলে ঘটনাস্থল থেকে চলে গিয়েছিলেন। পরে আবার ফিরে এসে আহত অবস্থায় তাঁকে নিয়ে আসেন। কেন তিনি ফিরে গেলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। ধৃতদের বয়ানে মিলছে একাধিক অসঙ্গতি। ফলে তদন্ত এখন নতুন দিক নিচ্ছে। শুভেন্দুর অভিযোগের পর, দুর্গাপুরকাণ্ড যে শুধু আইন নয়, রাজনীতিতেও ঝড় তুলবে, তা স্পষ্ট।





