কলেজ মানে শিক্ষার জায়গা। স্বপ্ন গড়া, ভবিষ্যত নির্মাণের ঠিকানা। অথচ সেই নিরাপদ জায়গাটিই যখন নারীর জন্য আতঙ্কের ঘর হয়ে ওঠে, তখন সমাজের আত্মপক্ষ সমর্থন করার জায়গা আর থাকে না। আরজি কর হাসপাতালে নার্স গণধর্ষণের ঘটনার ক্ষত এখনও তাজা, তার মাঝেই ফের রাজ্যের একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে উঠল ধর্ষণের অভিযোগ। দক্ষিণ কলকাতার কসবায় এক সরকারি আইন কলেজে ছাত্রীকে কলেজ চত্বরে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতার।
বুধবার সন্ধে ৭টা থেকে রাত ১০টা ৫০-এর মধ্যে ঘটেছে ভয়াবহ ঘটনাটি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার অভিযোগ—তাঁকে ‘জেনারেল সেক্রেটারি’ (GS) পদে মনোনয়ন দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কলেজে ডেকে পাঠানো হয়। তারপর তাঁকে কলেজ চত্বরের একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। একজন ধর্ষণে সরাসরি যুক্ত ছিল, বাকি দু’জন তাকে সহায়তা করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, বাকি দু’জন কলেজের কর্মী।
এই ঘটনায় নির্যাতিতা রাতেই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্তে নামে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, ২০২২ সালেই ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করে। কিন্তু তারপরেও কীভাবে তার কলেজে এমন অবাধ যাতায়াত? পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই অভিযুক্তদের পাকড়াও করা হয়।
সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা বলে জানা গিয়েছে। তিনি কলেজের ছাত্র সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলেও কলেজ সূত্রে খবর। বর্তমানে অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কলেজে যুক্ত ওই নেতা এলাকায় প্রভাবশালী বলেই পরিচিত। স্থানীয় মহলে তাঁর ‘তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা’ অনেক দিনের। সেই তিনিই এখন ধর্ষণকাণ্ডে নাম জড়ানোয় তোলপাড় গোটা রাজনীতি।
এমন এক সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে আরজি কর হাসপাতালে গণধর্ষণের ঘটনা ঘিরে রাজ্যের নারী-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ঘটনার পর সাংবাদিক বৈঠক করে নানা নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন। কিন্তু কসবায় ফের ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনা সেই ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ভারতের জন্য ‘বিরাট উপহার’? বড় বাণিজ্য চুক্তির ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প নিজেই
ঘটনার পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য বলেন, “এই ঘটনার সম্পর্কে আমি এখনো কিছু জানি না। তবে যদি কেউ তৃণমূলের নাম ব্যবহার করে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তা হলে তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।” যদিও তিনি দাবি করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কোনও পদে নেই। সার্বিকভাবে, রাজ্যের অন্যতম নামী সরকারি কলেজে এই ঘটনা কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা নয়, রাজ্যের নারী-নিরাপত্তার দাবিকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, তদন্ত কতটা নিরপেক্ষ হয় এবং অভিযুক্তরা আদৌ শাস্তি পায় কি না।





