পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সিপিএমকে নিয়ে এখন কটাক্ষের অন্ত নেই। একদা শাসকদল হলেও আজ ভোটে শূন্যতার অস্বস্তি থেকে বেরোতে পারছে না বাম শিবির। কিন্তু দলীয় মহলে স্বীকারোক্তি ভোটের পরাজয়ের থেকেও বড় বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য এক সমস্যা। সেটি হল যৌনকাণ্ডের ধারাবাহিক বিস্তার। একের পর এক অভিযোগে কার্যত কোণঠাসা আলিমুদ্দিন।
পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, একটি বিতর্ক মেটার আগেই আরেকটি অভিযোগ সামনে আসছে। ২০২৪ সালের অগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অগস্ট মাত্র এক বছরে দলের ভেতরে এমন সাতটি বড় কাণ্ড সামনে এসেছে, যেগুলি নিয়ে কটাক্ষ করে কেউ কেউ বলছেন, ‘‘এ যেন সিপিএমের যৌনায়ন মহাকাব্য!’’ উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রবণতাকে বয়সের সীমারেখায় বাঁধা যাচ্ছে না। ছাত্রনেতা থেকে ষাটোর্ধ্ব অভিজ্ঞ রাজনীতিক সবার নামই উঠে আসছে এই তালিকায়।
প্রথম আলোড়ন ওঠে গত বছর অগস্টে, যখন প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। পরে তাঁকে সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরেই উত্তর দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। যদিও তদন্তের পর তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়েছিল, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসাবে ফের ছ’মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। এর পরেই টালিগঞ্জের তরুণ নেতা সোমনাথ ঝা এবং পরে বেলঘরিয়ার এক রাজ্য কমিটি সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠে যৌন হেনস্থার অভিযোগ। একেকটি ঘটনা দলে বাড়িয়ে দেয় অস্বস্তি।
শুধু এখানেই শেষ নয় ডিওয়াইএফআইয়ের এক জেলা নেতৃত্বের পদে বসানো হয় এমন একজনকে, যার বিরুদ্ধে আগেই অভিযোগ ছিল। তারপর আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন মন্ত্রী বংশগোপাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদের এক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে কুরুচিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠে। তদন্তের পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। সবশেষে, সম্প্রতি দমদমের এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ওঠে মদ্যপানের প্রস্তাব, ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া এবং ধারাবাহিক যৌনচাপের অভিযোগ।
আরও পড়ুনঃ TMC: “রমেশ বিধুরী বাজে বাজে কথা বলল, মহুয়া চুপ, শতাব্দীও কিছু বলল না”— তৃণমূলের মহিলা মহলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে সিপিএম কি এখন শূন্যদশার থেকেও বড় এক সংকটে? দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘অস্বস্তি আছে বলেই আমরা পদক্ষেপ করি। কাউকেই রেয়াত করা হয় না।’’ কিন্তু অন্দরেই অনেকেই মনে করছেন, পারস্পরিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত চাহিদা এখন অনেক ক্ষেত্রে পদ পাওয়া বা না-পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। বিরোধীরা যেখানে বলছে সিপিএমে চলছে ‘আর্যভট্টদশা’, সেখানে দলেরই একাংশ মনে করছেন, ‘‘আজ নয় কাল শূন্যতা কাটবে, কিন্তু যৌনকাণ্ডের এই বাৎস্যায়নদশা পার্টিকে ভিতরে ভিতরে গিলে খাচ্ছে।’’





