রাজ্য রাজনীতিতে আবারও উত্তাপ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার এবং রাজভবনের মধ্যে নানা ইস্যুতে টানাপোড়েন দেখা গেলেও, এবার পরিস্থিতি যেন আরও চড়া সুরে ছাপ ফেলেছে। সাধারণ রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা ছাড়িয়ে অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ এমন স্তরে পৌঁছেছে যে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলের আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন, সত্যিই কি নতুন সংঘাতের মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ?
তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন রাজভবনে ‘অপরাধীদের’ আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে। এ শুধু রাজনৈতিক অভিযোগ নয়—কল্যাণের ভাষণে আরও বিস্ফোরক দাবি এসেছে, রাজভবন থেকে নাকি বন্দুক-বোমা বিলি হচ্ছে এবং তৃণমূল কর্মীদের আক্রমণ করতে উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যপাল বিজেপির অপরাধীদের রাখছেন, অস্ত্র দিচ্ছেন, বলে দিচ্ছেন তৃণমূলের লোকেদের মারতে।” স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য তীব্র আলোড়ন তোলে।
কল্যাণের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় রাজভবন। শনিবার রাতেই এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, রবিবার ভোর ৫টা থেকে রাজভবন সকলের জন্য খুলে দেওয়া হবে—সাংবাদিক, সাংসদ, নাগরিক সমাজ—সর্বাধিক ১০০ জন প্রবেশ করে দেখে নিতে পারবেন, সেখানে কোনও অস্ত্র বা গোলাবারুদ রয়েছে কি না। রাজভবনের যুক্তি, যদি অস্ত্র থাকে তবে তদন্ত অবশ্যই হবে; আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তা হলে কল্যাণকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, এই মন্তব্যের জন্য লোকসভার স্পিকারের কাছেও পদক্ষেপের অনুরোধ করা হবে।
রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে আগেও একাধিকবার মতবিরোধ সামনে এসেছে। কিন্তু এবার অভিযোগের ভাষা এবং তীব্রতা ইঙ্গিত দিচ্ছে আরও গভীর উত্তেজনার। রাজভবন স্পষ্ট জানিয়েছে, রাজ্যপাল জেড-প্লাস নিরাপত্তায় থাকেন, তবুও অস্ত্র ঢুকে থাকলে কলকাতা পুলিশের জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে—কল্যাণ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে থাকেন, তবে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে। এই ইস্যুতে জনমানসে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ রামমোহনকে ‘ব্রিটিশের দালাল’ বলেই কি বিপাকে BJP মন্ত্রী? চাপে পড়ে শেষমেশ ক্ষমা চাইলেন ইন্দর পারমার!
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস জানিয়েছেন, কল্যাণ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য করেছেন, এবং বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানানো হবে। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন—কল্যাণ তার মন্তব্য থেকে না সড়লে সাংবিধানিক এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রশ্ন তুলেছেন—কলকাতা হাইকোর্ট সতর্ক করার পরও কীভাবে একজন সাংসদ এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন? সিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে রাজ্যপালের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত আপাতত থামার কোনও লক্ষণ নেই। আগামী দিনে এই টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।





