যুবকের গলা ফুঁড়ে এফোঁড়-ওফোঁড় হয়ে গিয়েছিল ত্রিশূল। সেই অবস্থাতেই হাসপাতালে ছোটেন যুবক। তা দেখেই শিউড়ে উঠেছিলেন সকলে। কিন্তু চিকিৎসকরা বুঝেছিলেন যে তক্ষুনি অস্ত্রোপচার না করলে যুবকের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব নয়। ফলে ভোররাতেই ইএনটি বিভাগে করা হয় ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার। সাফল্যও মেলে। যুবকের গলা থেকে ত্রিশূলটি সাবধানে বের করে আনে চিকিৎসক মহল।
ঘড়িতে সময় তখন ভোর ৩টে। রক্তাক্ত অবস্থায় ছুটতে ছুটতে এনআরএসে আসেন এক যুবক। তাঁকে দেখেই চমকে ওঠেন চিকিৎসকরা। ত্রিশূলের ধারালো ফলা ঢুকে গিয়েছে তাঁর গলায়। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অপারেশনের ব্যবস্থা করা হয়।
ইএনটি বিভাগের ডাক্তার সুতীর্থ সাহার নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম তৈরি করা হয়। দলে ছিলেন এক অ্যানাস্থেশিস্ট-সহ আরও দুই ডাক্তার। ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে খুঁটিনাটি পরামর্শ দেন প্রণবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।
কঠিন অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে ত্রিশূলটি বের করা হয় যুবকের গলা থেকে। তাঁর গলার ক্ষত অনেকটাই নির্মূল করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। যুবকের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে।
যে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেছে, তাদের কথায়, খুব জটিল ছিল পরিস্থিতি। তবে ঝুঁকি নিয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যুবকের প্রাণ বেঁচেছে। তবে কীভাবে যুবকের গলায় এই ত্রিশূল ঢুকল, তা এখনও জানা যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে জ্ঞান ফিরলে যুবককে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে।
কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলিতে এর আগেও একাধিকবার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে এটা একটা বিরল ঘটনা। ভোররাতেই তৎক্ষণাৎ মেডিক্যাল টিম তৈরি করে এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা ও তাতে সাফল্য পাওয়া নজিরবিহীনই বটে।






