ফের দেড় দশক পর আবার পুরনো ছন্দে ফিরছে দোতলা বাস। বাঙালির নস্টালজিয়া। অনেক পুরনো হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিকে উস্কে দিতে কলকাতার রাস্তায় আজ থেকেই নামছে দোতলা বাস। একসময় হাওড়া, বেহালা, ব্যারাকপুরের রাস্তায় চলত এই বাস। নব্বই-এর দশক থেকেই ধীরে ধীরে কলকাতার রাস্তায় ক্রমশ ফিকে হতে থাকে এই বাসগুলি। পরে ২০০৫ সালে পাকাপাকিভাবে এই বাস তুলে নেওয়া হয়। নানান কারণে ক্রমশ কলকাতাবাসীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় এই বাসের। কিন্তু এবার সব সম্পর্কের সমীকরণ পাল্টে ফের একবার শহরবাসীর কাছে ধরা দেবে এই দোতলা বাস।

এই করোনা পরিস্থিতে ঘরবন্দি মানুষ যখন নিজেদের শৈশবের বা দুর্গাপুজোর স্মৃতি রোমন্থন করেছে, তখন হয়ত একবার হলেও এই দোতলা বাসের উল্লেখ হয়েছে তাদের মুখে। এই বাস চড়ে ঠাকুর দেখতে যাওয়া, উঁচু জানলা দিয়ে সবার মাথা টপকে ঠাকুর দর্শনের অনুভূতি এখনও নিশ্চয় তাড়া করে বেড়ায় শহরবাসীর অনেককেই।

তবে আগের মতো আর লাল রঙের নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রূপেরও পরিবর্তন হয়েছে এই দোতলা বাসের। নীল-সাদা রঙ নিয়ে অত্যাধুনিক সাজে ফিরছে এই বাস। হুড খোলা এই বাসে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা, অটোম্যাটিক দরজা, প্যানিক বাটন, ডেসটিনেশন বোর্ড-সহ অন্যান্য সুবিধা। আগের দোতলা বাসে থাকত দুটি দরজা, কিন্তু এই বাসে রয়েছে একটিই দরজা। বাসের ভিতর দিয়ে থাকবে উপরে ওঠার সিঁড়ি। প্রতিটি বাসে আসন থাকবে ৪৫টি।

আপাতত দুটি বাস নিয়েই চালু হচ্ছে এই পরিষেবা। এরপর ধীরে ধীরে বাসের সংখ্যা ১০টি করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। দুটি বাস ৯০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম। গত মার্চ মাসেই কেন্দ্রের থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাস দুটি হাতে পায় রাজ্য কিন্তু এরপর করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে তখন দোতলা বাসের রাস্তায় নামার পক্ষে বিপত্তি দেখা দেয়। সম্প্রতি, নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয় যে, পরিবহন নিগম নয়, বরং পর্যটন বিকাশের লক্ষ্যেই এই বাস চালানো হবে লন্ডন শহরের আদলে কলকাতা ঘুরে দেখার জন্য আসতে চলেছে এই বাস। তবে এই বাস কোথা থেকে ছাড়বে না কোথায় যাবে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত ভাবে কিছু জানা যায়নি। আজ, মঙ্গলবার এই বাসের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই জানানো হবে বাসের ভাড়া এবং কীভাবে তা বুকিং করতে হবে, এই বিষয়ে।





