মমতা শুধু নাম কিনছেন, আসলে কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন ও এই বাঙালি মহিলার বহু বছরের গবেষণার কারণেই দুর্গাপুজোকে স্বীকৃতি ইউনেস্কোর

দুর্গাপুজো বাঙালির কাছে একটা আলাদা আবেগ, যা কোনও কিছুর সঙ্গেই তুলনা করা যায় না। দুর্গাপুজোর বিস্তার এতটাই যে  এই উৎসব যেন আলাদা কোনও ধর্মের মানুষের নয়। এই উৎসব সকলের। ইউনেস্কোর তরফেও দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে বাঙালির এই উৎসব ধর্মীয় উৎসবকে ছাপিয়ে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

আজ, ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এই পুজোর আগাম সূচনা হয়ে গেল বলা যায়। আর ঠিক একমাস পরই দুর্গাপুজো শুরু। কিন্তু ইউনেস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য আজ, বৃহস্পতিবার থেকেই বাংলায় পুজোর গন্ধ ছড়াল। এদিন রেড রোডে হল দুর্গাপুজোর র‍্যালি।

তবে দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি কিন্তু একদিনে মেলেনি। এর নেপথ্যে রয়েছে অনেক কাহিনী। বহু বছরের পরিশ্রমের ফলেই ইউনেস্কোর তরফে দুর্গাপুজোকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন কলকাতার গবেষক তপতী গুহঠাকুরতা। তাঁর গবেষণার ও সাধনার ফলেই এসেছে বিশ্ব জয়।  

তপতী গুহঠাকুরতা হলেন প্রেসিডেন্সির কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী, অধ্যাপিকা, গবেষক। বছর পঁয়ষট্টির তপতীদেবী ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব নিয়ে তাঁর লেখা বই হয়ত পড়েছেন অনেকেই। কিন্তু তপতীদেবীর গবেষণা যে আরও অনেক গভীরে, তা বোধহয় জানতেন না কেউ।

তপতীদেবী নিজেই ২০১২ সালে দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ইউনেস্কোকে আবেদন জানান। তবে সেই সময় তাঁর সেই আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। ২০১৫ সালে দুর্গাপুঁজও নিয়ে লেখা একটি বই প্রকাশিত হয় তাঁর। ২০১৮ সালে দিল্লির সংস্কৃতি মন্ত্রকের তরফে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ও ইউনেস্কোর কাছে জমা দেওয়ার জন্য একটি গবেষণাপত্র তৈরি করতে বলা হয় তাঁকে।

তিনি প্রথমে রাজি না হলেও, তাঁর দুই ছাত্রছাত্রীর আশ্বাসের ফলে তিনি রাজি হন। সাত মাসের মধ্যেই গবেষণাপত্র তৈরি করেন তপতী গুহঠাকুরতা। সেই গবেষণাপত্র ভারত সরকার ইউনেস্কোর কাছে পাঠিয়ে হেরিটেজ স্বীকৃতির জন্য আবেদন জানায়। এরপর গত বছর দুর্গাপুজোকে হেরিটেজ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

আজকের অনুষ্ঠানের পর তপতী বলেন, “যে যে ফ্যাক্টরের উপর ভিত্তি করে ইউনেস্কো এ ধরনের স্বীকৃতি দিয়ে থাকে, তার সবকটাই দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমার গবেষণায় আমি দেখিয়েছি, কীভাবে এই উৎসব ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের উৎসব হয়ে উঠেছে। বড় একটা ডসিয়ের আমি দিয়েছিলাম। আপনারা ওয়েবসাইটে গিয়ে সেই ডসিয়েরটি দেখতে পারেন। ইউনেস্কো সব দেখে মেনে নিয়েছে যে এটি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক উৎসব”।

RELATED Articles