RG Kar : ভোটের আগে রাজ্যে নতুন মোড়! ইডি তদন্তে আঘাত, আরজি কর হাসপাতাল দুর্নীতির মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট!

রাজ্যের রাজনীতিতে ভোটের আবহ এখনো প্রভাব ফেলছে নানা ক্ষেত্রে, আর সেই প্রভাব স্পষ্টতই দেখা যাচ্ছে আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতি মামলায়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তদন্তের পর শুক্রবার নতুন মোড় এসেছে, যখন কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করল। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন প্রশাসনিক মহলে নজর কেড়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

ইডির চার্জশিটে নাম এসেছে হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের। তার সঙ্গে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার নামও। বর্তমানে এই তিনজনই জেলে রয়েছেন। জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সিবিআই দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতারির কার্যক্রম চালিয়েছে এবং বর্তমানে তারা বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। ইডির সূত্রে জানা গেছে, তারা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেলেই জেরা করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা দাবি করছেন, বিপ্লব সিংহের সংস্থা ‘মা তারা ট্রেডার্স’ হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করত। অভিযোগ উঠেছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে নিয়মবহির্ভূতভাবে একের পর এক বরাত পেয়েছিল এই সংস্থা। সুমন হাজরার ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে। এই সমস্ত লেনদেনে লক্ষণীয়ভাবে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। সেই সঙ্গে ইডি ও সিবিআই সমান্তরালভাবে তদন্ত চালিয়েছেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে নিরাপত্তারক্ষী আফসার আলির কাছ থেকে।

আক্রান্তদের বিরুদ্ধে মামলা তৎপরতার সঙ্গে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই আলিপুর আদালত আখতার আলির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। আখতার আলি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রথমে এই দুর্নীতি অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর আবিষ্কারের ভিত্তিতেই সিবিআই এবং পরে ইডি তদন্ত শুরু করে। জানা গেছে, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, জেল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের জেরা হবে।

সন্দীপ ঘোষ, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরার এই চার্জশিট পেশের ঘটনা নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও সন্দীপ ঘোষ ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় জামিন পেয়েছিলেন, আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তিনি এখনও জেলেই রয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা হাইকোর্ট এই মামলার ধীরগতি নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কঠোর সমালোচনা করেছিল। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেছিলেন, “ইডি চার্জশিট দেয় না, বিচারপ্রক্রিয়াও এগোয় না।” সেই ভর্ৎসনার পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে এদিন চার্জশিট পেশ হওয়ায় মামলার গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ Udayan-Suvendu: ‘মোদীর ব্যাটা’ বনাম ‘চোর বাবা’! বিধানসভায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংঘর্ষ!

এভাবে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনীতি, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আদালতের নজরবন্দি ঘটনাগুলো মিলিয়ে এই আরজি কর হাসপাতাল দুর্নীতি-কাণ্ডের প্রাথমিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এখন চোখ রয়েছে বিচার প্রক্রিয়ার ওপর, যাতে দুর্নীতির দায় প্রকৃত অভিযুক্তদের ওপর ঠিকভাবে আনা যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles