I-PAC Case: “আদালতকে যন্তর-মন্তর বানানো হয়েছে?”— I-PAC কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে তুফান, সাসপেন্ডের দাবিতে তীব্র বিতর্ক!

রাজনৈতিক চাপানউতোর, তদন্তকারী সংস্থার ক্ষমতা এবং আদালতের ভূমিকা—এই তিনের টানাপোড়েনেই আবারও উত্তাল দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়। I-PAC সংক্রান্ত ইডির তল্লাশি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা আর শুধু রাজ্য-রাজনীতির গণ্ডিতে আটকে নেই। সুপ্রিম কোর্টে শুরু হওয়া শুনানিতে একের পর এক অভিযোগ, পাল্টা প্রশ্ন আর তীব্র মন্তব্যে স্পষ্ট—এই মামলা শুধুই একটি তল্লাশি অভিযান নয়, বরং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও আইনের সীমা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে শুনানির শুরুতেই সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, I-PAC-এ ইডির তল্লাশির সময় এমন কিছু ঘটেছে যা “স্তব্ধ করে দেওয়ার মতো”। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, তদন্ত চলাকালীন ইডি অফিসারদের কাজে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে। এমনকি আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, ইডি আধিকারিকদের ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বিচারপতিরা তখনই প্রশ্ন তোলেন—এই আবেদন শোনার যোগ্যতা ঠিক কোন ভিত্তিতে, এবং বিষয়টি কতটা গুরুতর।

শুনানিতে তুষার মেহতা আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এর আগেও CBI তদন্তের সময় একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং তখন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তদন্ত এগিয়েছিল। তাঁর যুক্তি, ইডির অফিসাররাও দেশের নাগরিক এবং আইন অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে আসার সম্পূর্ণ অধিকার তাঁদের রয়েছে। তদন্তে বাধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড করা উচিত বলেও দাবি তোলেন তিনি। এই প্রসঙ্গে বিচারপতির কড়া প্রশ্ন—“আপনি কি চান আদালতই সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিক?”

এদিন শুনানিতে উঠে আসে হাইকোর্টে আগের শুনানির সময় বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গও। তুষার মেহতার অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের লিগাল সেলের ডাকে আদালত চত্বরে ভিড় জমেছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিচারপতির মন্তব্য ছিল তীক্ষ্ণ—“অর্থাৎ আদালতকে যন্তর-মন্তর বানানো হয়েছিল?” উত্তরে ‘হ্যাঁ’ বলেন সলিসিটর জেনারেল। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেন, অর্থপাচার মামলায় ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইডির রয়েছে এবং কোর্টের নির্দেশে প্রয়োজনে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরতও দেওয়া যায়।

আরও পড়ুনঃ I-PAC raid : আইপ্যাক তল্লাশি ঘিরে বড় সংঘাত! রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে ইডি-র কড়া অভিযোগ, এবার কি সুপ্রিম কোর্টে কঠিন প্রশ্নের মুখে প্রশাসন?

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ আসে তদন্তের উদ্দেশ্য নিয়ে। তুষার মেহতার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়লা কেলেঙ্কারি তদন্তেই ইডির অভিযান হয়েছিল। অভিযোগ, কিছু নির্বাচিত সংস্থাকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল এবং হাওয়ালার মাধ্যমে বিপুল অর্থপাচার হয়েছে। ৮ জানুয়ারি একযোগে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়, যার মধ্যে I-PAC এবং প্রতীক জৈনের বাড়িও ছিল। সেই অভিযানের আগাম তথ্য ফাঁস হয়েছিল কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে, ডিজিপি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ও ডিসি সাউথ প্রিয়ব্রত রায়কে সাসপেন্ড করার দাবিও জানায় ইডি। আদালত এখন এই সব অভিযোগ ও পাল্টা যুক্তির মধ্যেই ঠিক করবে—আইনের পথে কে কোথায় সীমা ছাড়াল।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles