পুরভোটে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ, তা সত্ত্বেও ভোট বাড়ছে বিজেপির, কলকাতা পুরনিগম আদতে কার দখলে থাকবে? কী বলছে সমীক্ষা?

গতকাল, ১৯শে ডিসেম্বর ছিল কলকাতা পুরভোট। এদিন ভোট হয়েছে পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডে। পুরভোটে আসলে জিতবে কে? সামনে এলো এবিপি-সি ভোটারের বুথ ফেরত সমীক্ষা রিপোর্ট।

গতকালের পুরসভার নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের তরফে শাসকদলের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তোলা হয়েছে। ভোটে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে একাধিক। বিজেপি পুর্নির্বাচনের দাবী তুলেছে। কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে।

এই বুথ ফেরত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে আগের বারের তুলনায় পুরভোটে বিজেপির ভোট বাড়লেও তা তৃণমূলকে ছাপিয়ে যেতে পারবে না। সমীক্ষা অনুযায়ী, কলকাতা পুরভোটে ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩১টি আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল। আর ১৩টি ওয়ার্ডে জিতে প্রধান বিরোধী দল হতে চলেছে বিজেপি। বিধানসভার পর কলকাতা পুরসভাতেও বামেদের আসন শূন্য।

এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল ৫৯ শতাংশ ভোট পেতে পারে। বিজেপি পেতে পারে ২৮ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, কংগ্রেস ৬ শতাংশ ও সিপিএম পেতে পারে ৫ শতাংশ ভোট। কলকাতা পুরভোটে চতুর্মুখী লড়াই হলেও ফলাফল মোটামুটি একমুখীই হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৫ সালে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনেও তৃণমূল পর্যাপ্ত প্রাধান্য নিয়ে জিতেছিল। ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১১৪টি ওয়ার্ডে। দ্বিতীয় স্থানে ছিলে বামফ্রন্ট। সিপিএম নেতৃত্বধীন বামফ্রন্টের দখলে গিয়েছিল ১৫টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে, বিজেপি জিতেছিল সাতটি ওয়ার্ডে। কংগ্রেসের দখলে ছিল ৫টি ওয়ার্ড। আর অন্যান্যরা তিনটি ওয়ার্ডে জয় পেয়েছিল।

এবার একুশের বিধানসভা ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে ১৩২টিতে। বিজেপি এগিয়ে ১১টিতে। আর কংগ্রেস এগিয়ে মাত্র একটি ওয়ার্ডে। বামেরা কোনও ওয়ার্ডে এগিয়ে নেই আপাতত।

ভবানীপুরের ৭০ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড, রাসবিহারীর ৮৭ নম্বর ওয়ার্ড, জোড়াসাঁকোর ২২, ২৩, ২৫, ২৭ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড, শ্যামপুকুরের ২১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড, মানিকতলার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড এবং চৌরঙ্গীর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল পিছিয়ে। উপনির্বাচনের সময় ভবানীপুরে তৃণমূল যে দুটি ওয়ার্ডে পিছিয়ে ছিল, সেই দুই ওয়ার্ডে এবার বিজেপিকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তবে বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, একুশের নির্বাচনের থেকে বেশি আসন পাবে।

RELATED Articles