গতকাল, রবিবার কলকাতা পুরভোট নিয়ে গোটা শহর ছিল উত্তপ্ত। দেই ভোটে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলল বিজেপি-সিপিএম। যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে অভিযোগপত্র দাখিলের আবেদন জানানো হয় বিজেপির তরফে। মামলার অনুমতি চেয়েছিলেম সিপিএম প্রার্থী দেবলীনা সরকার। দুটি মামলাই আদালতে মঞ্জুর করেছেন প্রধান বিচারপতি। এই আইনি লড়াই যে সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য।
হাইকোর্টের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল যে পুরভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে না। তাই যদি কোনও অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা ঘটে, তাহলে কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও ডিজির থেকে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। দের পাশাপাশি রাজ্য নির্বাচন কমিশনকেও জবাবদিহি করতে হবে বলে জানায় হাইকোর্ট।
এক্ষেত্রে পুরভোট নিয়ে বিরোধীরা একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। গতকালই নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ধর্না দিয়েছেন বিরোধীরা। তাদের কথায়, শান্তিপূর্ণভাবে একেবারেই ভোট হয়নি। এই মূল মামলার শুনানি রয়েছে আগামী ২৩ তারিখ। এই মামলার সঙ্গেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে দেবলীনা সরকারের মামলা। তাঁর অভিযোগ পুরভোটে সন্ত্রাস হয়েছে। এদিন তাঁর এই অভিযোগ শুনবে আদালত।
উল্লেখ্য, এদিনই অন্য একটি মামলারও শুনানি রয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া পুরসভায় কবে আদৌ ভোট হবে, কত দফায় ভোট হবে, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কমিশনকে। এদিন সেটিও শুনবে আদালত। অর্থাৎ পুরভোট নিয়ে কমিশনকে বেশ অনেক প্রশ্নের মুখেই পড়তে হবে। সিসিটিভি ফুটেজে যে সন্ত্রাসের ছবি ধরা পড়েছে, তা নিয়ে পুলিশের কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়ে আদালতে কমিশন কী বলে, তা নিয়েও রয়েছে জল্পনা।
নির্বাচন কমিশনের তরফে দাবী করা হয়েছে যে কোনও জায়গায় ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া পুরভোট শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিরোধীরা এই দাবী নস্যাৎ করে দেয়।
১৪৪টি ওয়ার্ডেই পুনর্নির্বাচন চেয়েছে বিজেপি। এদিকে বাম ও কংগ্রেসও একাধিক ওয়ার্ডে পুনর্নির্বাচনের দাবী তুলেছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা কম। কমিশনের দাবী পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন নেই।
জানা গিয়েছে, মোট ৪৫৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। ১৯৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই জায়গায় হয়েছে বোমাবাজি। তবে সিসিটিভি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ নস্যাৎ করেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, কোনও জায়গায় সিসিটিভি অচল ছিল না। শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটলুঠের অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটে অনিয়মের অভিযোগে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায় বাম ও কংগ্রেস কর্মীরা। এরপর বড়তলা থানার সামনে বিক্ষোভে যোগ দেয় বিজেপি।
৯৬, ১০১, ১০২, ১১০ নং ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। বাঘাযতীন মোড়ে অবরোধ করেন বামেরা। পুলিশের সঙ্গে বেঁধে যায় ধস্তাধস্তি। খিদিরপুরে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বাম কর্মীরা। ভোটে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মীরা। তাঁদের আটক করে পুলিশ।





